চাঁদের বুকে ভারতের ‘বিক্রম’ই দেখাচ্ছে পথ, এবার স্থায়ী ঘাঁটির পরিকল্পনা নাসার

চাঁদের বুকে ভারতের ‘বিক্রম’ই দেখাচ্ছে পথ, এবার স্থায়ী ঘাঁটির পরিকল্পনা নাসার

ঐতিহাসিক চন্দ্রযান-৩ মিশনের অভাবনীয় সাফল্য এবার মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎ রূপরেখা বদলে দিচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে পা রেখেছিল ভারতের ল্যান্ডার বিক্রম। রাশিয়া, আমেরিকা কিংবা চিনের মতো পরাশক্তিগুলো যা করতে ব্যর্থ হয়েছে, ভারতের সেই কৃতিত্বই এখন আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। ল্যান্ডার বিক্রমের পাঠানো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নাসা এখন তাদের ‘আর্টেমিস’ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের জোরালো পরিকল্পনা শুরু করেছে।

শিব শক্তি পয়েন্ট ও নতুন বৈজ্ঞানিক দিগন্ত

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ল্যান্ডার বিক্রম যেখানে অবতরণ করেছিল, সেই স্থানটিকে ‘শিব শক্তি পয়েন্ট’ নামকরণ করা হয়। অভিযানের শেষ মুহূর্তে বিক্রম একটি অপরিকল্পিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালায়, যা চাঁদের মাটির গঠন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের পূর্ববর্তী ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। নাসার বিজ্ঞানীরা স্বীকার করেছেন যে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর মাটি পূর্বে যা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়, জটিল এবং খনিজ সমৃদ্ধ। এই নতুন আবিষ্কারের ফলেই সেখানে মানব বসতি ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণাগার গড়ে তোলার আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে নাসা।

ব্যর্থতা থেকে মহাকাশ জয়ের ইতিহাস

২০১৯ সালে চন্দ্রযান-২ মিশনের শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতা ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (ISRO) বিজ্ঞানীদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছিল। তবে সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২৩ সালের ১৪ জুলাই শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করে চন্দ্রযান-৩। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ২৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে চাঁদের মাটি স্পর্শ করে ইতিহাস গড়ে বিক্রম। ভারতের এই সফল প্রযুক্তিগত প্রয়োগের ওপর ভরসা করেই নাসা এখন চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরি করছে, যা আগামী দিনে গভীর মহাকাশ অভিযানের পথকে আরও সুগম করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *