কাঁচরাপাড়া পুরবোর্ডে নজিরবিহীন ধস, একযোগে ইস্তফা দিলেন ১৫ তৃণমূল কাউন্সিলর!

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তীব্র ভাঙন দেখা দিল কাঁচরাপাড়া পুরসভায়। দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনাকে সত্যি করে মঙ্গলবার একযোগে পদত্যাগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ জন কাউন্সিলর। এই গণ-ইস্তফার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বীজপুরের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কাঁচরাপাড়ার তৃণমূল পরিচালিত বর্তমান পুরবোর্ডের ভবিষ্যৎ এবং স্থায়িত্ব নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
নেতৃত্বহীনতা ও ক্ষোভের জের
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কাঁচরাপাড়া পুরসভা কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল। পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি এই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটায়। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্ম যেমন ব্যাহত হচ্ছিল, তেমনই কাউন্সিলরদের একাংশের মধ্যেও ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। নাগরিক পরিষেবা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সম্প্রতি বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস পুরসভায় গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বৈঠকও করেন। সূত্রের খবর, গত রবিবার কল্যাণীতে তৃণমূল কাউন্সিলরদের একটি গোপন বৈঠক হয় এবং সেখানেই এই একযোগে পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ক্ষমতার সমীকরণে বদল ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই গণ-ইস্তফার ফলে কাঁচরাপাড়া পুরসভার ক্ষমতার সমীকরণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে যেতে চলেছে। পদত্যাগকারী কাউন্সিলররা তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ বা ইস্তফার কারণ নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, এই কাউন্সিলররা আগামী দিনে দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনা সত্যি হলে এই পুরবোর্ড টিকবে না। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে নাগরিক পরিষেবা কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়। অন্যদিকে, আকস্মিক এই বড় ধাক্কায় চরম অস্বস্তিতে পড়লেও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।