সংসার ভাঙার দায় আর পণের বলি, বিয়ে নিয়ে এবার মেয়েদের হয়ে জোরালো সওয়াল খুশবুর

বলিউডে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রে দুই ভিন্ন ঘটনা, যার একদিকে রয়েছে এক ভাঙনের গুঞ্জন এবং অন্যদিকে পণের দাবিতে নৃশংসতা। অভিনেত্রী মৌনী রায়ের সংসার ভাঙার নেপথ্যে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে অভিনেত্রী দিশা পটানীকে। এই বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বোন দিশার পাশে দাঁড়িয়ে এবং দেশের সামগ্রিক সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন তাঁর দিদি তথা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য খুশবু পটানী। ত্বিশা শর্মা ও দীপিকা নাগরের মতো মেয়েদের পণের বলি হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে সরাসরি বিয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি।
কাঠগড়ায় সমাজব্যবস্থা ও একা থাকার শিল্প
খুশবু পটানীর মতে, ভারতীয় সমাজে একা কোনো মেয়েকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে না বলেই যত বিপত্তি। ‘লোকে কী বলবে’—এই ভয়েই অনেক মেয়ে নরকযন্ত্রণা সহ্য করে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। তবে খুশবুর দাবি, একা থাকাটাও একটা শিল্প এবং একা থেকে যদি কেউ সুখী হতে পারে, তবে সেটাই আসল ভালো থাকা। বোন দিশা পটানীকে সম্পূর্ণ ‘সিঙ্গল’ দাবি করে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁরা দুজনেই জীবনে একাকী চলার পথ বেছে নিতে প্রস্তুত।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা। একদিকে শ্বশুরবাড়িতে ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যু এবং দীপিকা নাগরের পণের বলি হওয়া, যা দেশের সমাজব্যবস্থার কদর্য রূপটিকে আবার সামনে এনেছে। অন্যদিকে, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই মৌনী রায়ের বিবাহবিচ্ছেদের জন্য দিশা পটানীকে দায়ী করে সমাজমাধ্যমে চলা লাগাতার কুৎসা।
বিশ্লেষকদের মতে, খুশবুর এই মন্তব্যের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। একজন সেনাকর্মী এবং তারকা-ভগিনীর এই মন্তব্য সমাজমাধ্যমে যেমন বিয়ের সনাতন ধারণা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে, তেমনই পণের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করবে। একই সাথে, কোনো নারীর ব্যক্তিগত জীবনের সংকটের জন্য অন্য নারীকে অবলীলায় দায়ী করার যে প্রবণতা, তার বিরুদ্ধেও এটি একটি শক্তিশালী বার্তা।