আটকে থাকা আরও এক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে, এবার দেশীয় গোসম্পদ ও গোরু সংরক্ষণে ‘জাতীয় গোকুল মিশন’ চালুর ঘোষণা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের

আটকে থাকা আরও এক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে, এবার দেশীয় গোসম্পদ ও গোরু সংরক্ষণে ‘জাতীয় গোকুল মিশন’ চালুর ঘোষণা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ‘ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট’ আইন এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের মতো একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, এবার কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ক্ষেত্রে আরও এক মেগা কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাংলায় চালু করার ঘোষণা করল নতুন বিজেপি সরকার। বিগত তৃণমূল সরকারের জমানায় আটকে থাকা ‘জাতীয় গোকুল মিশন’ (Rashtriya Gokul Mission) এবার পুরোদমে কার্যকর হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। মঙ্গলবার নবান্নে রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং বিভিন্ন গোশালার মালিকদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই বড় ঘোষণা করেন নতুন প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এই সিদ্ধান্ত গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার পাশাপাশি দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে এক বিরাট ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

পূর্বতন সরকারের আটকে রাখা প্রকল্প এবার বাংলায়: দিলীপ ঘোষ

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের নীতিকে তীব্র আক্রমণ শানান প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান:

“বিগত সরকার শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং অহঙ্কারের কারণে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আনা একাধিক জনকল্যাণমুখী কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে আটকে রেখেছিল। কিন্তু আমাদের বর্তমান বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে সেই সমস্ত প্রকল্প একে একে বাংলায় চালু করবে। জাতীয় গোকুল মিশন তার মধ্যে অন্যতম।”

কী এই ‘জাতীয় গোকুল মিশন’?

দেশীয় জাতের গোরু এবং মহিষের বংশবৃদ্ধি ও সুরক্ষার লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশজুড়ে এই মেগা মিশন চালু করেছিল নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্যগুলি হলো:

  • দেশীয় গোসম্পদ সুরক্ষা: গির, শাহিওয়াল, থরপারকর বা বাংলার নিজস্ব দেশীয় জাতের গোরুর বৈজ্ঞানিক উপায়ে বংশবৃদ্ধি করা।
  • দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি: উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশীয় গোরুর দুধ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো, যাতে দুগ্ধ চাষিদের আয় এক ধাক্কায় অনেকটা বৃদ্ধি পায়।
  • অনুত্পাদক গোরুর সংরক্ষণ: যে সমস্ত বয়স্ক গোরু দুধ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, তাদের ফেলে না রেখে বৈজ্ঞানিক উপায়ে গোশালায় রেখে রক্ষণাবেক্ষণ এবং জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদনে কাজে লাগানো।

তৃণমূলের ডেয়ারি নীতিকে টেক্কা, কোণঠাসা ঘাসফুল শিবির

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারি, সল্টলেক ও কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে পুরসভার বুলডোজার অ্যাকশন এবং নদিয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব চরম কোণঠাসা, ঠিক তখনই একের পর এক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে এনে নিজেদের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের উপযোগিতা প্রমাণ করতে মরিয়া বিজেপি নেতৃত্ব।

ইতিমধ্যেই এইমসে লেজার ইউনিট চালু এবং উত্তরকন্যায় মন্ত্রীর গণ-শুনানি শুরুর পর, দিলীপ ঘোষের এই ‘গোকুল মিশন’ চালুর সিদ্ধান্ত রাজ্যের দুগ্ধ ব্যবসায়ী এবং পশুপালকদের এক বিরাট বড় অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে চলেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই মিশন গ্রাউন্ড স্তরে রূপায়ণের জন্য জেলাভিত্তিক রূপরেখা তৈরি করা হবে বলে প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে খবর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *