‘নিয়োগ প্রক্রিয়াই বৈধ নয়, যোগ্যতা যাচাই করে কী হবে!’ মাদ্রাসা মামলার শুনানিতে ফের সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ

‘নিয়োগ প্রক্রিয়াই বৈধ নয়, যোগ্যতা যাচাই করে কী হবে!’ মাদ্রাসা মামলার শুনানিতে ফের সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের (MSC) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের আইনি বৈধতা নিয়ে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে চরম অস্বস্তির মুখে পড়ল রাজ্য প্রশাসন। বুধবার মাদ্রাসা নিয়োগ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, যে নিয়োগের মূল সিলেকশন প্রক্রিয়াই ত্রুটিপূর্ণ এবং অবৈধ, সেখানে পরবর্তীকালে ওএমআর শিট (OMR Sheet) বা প্যানেল খতিয়ে দেখে কারা যোগ্য আর কারা অযোগ্য— তা যাচাই করার কোনো যৌক্তিকতাই থাকে না।

মঙ্গলবারই এই মামলায় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহর ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করেছিল যে, গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে তাঁদের ‘ভয়াবহ অভিজ্ঞতা’ হয়েছে। বুধবারের শুনানিতেও সেই একই সুর বজায় রেখে রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে দাঁড় করাল শীর্ষ আদালত।

যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রশ্নই ওঠে না, সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান

এদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয় যে, গাছের গোড়াটাই যদি পচা হয়, তবে তার ডালপালা ছাঁটাই করে কোনো লাভ নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:

  • মূল প্রক্রিয়াতেই গলদ: যদি শিক্ষক নিয়োগের প্রাথমিক সিলেকশন প্রক্রিয়া বা পরীক্ষা পদ্ধতিই নিয়ম মেনে না হয়ে থাকে, তবে সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাকরি পাওয়া কাউকেই ‘বৈধ’ বলা চলে না।
  • যোগ্যরাও সুযোগ পায়নি: আদালতের মতে, এই ত্রুটিপূর্ণ ও অস্বচ্ছ ব্যবস্থার কারণে বহু যোগ্য ও প্রকৃত মেধাবী চাকরিপ্রার্থী সুযোগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

বিগত ১০ বছরের ‘ভয়াবহ অভিজ্ঞতা’র পুনরাবৃত্তি

মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ আদালত যখন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গের বিগত এক দশকের নিয়োগ দুর্নীতি ও আইনি জটিলতার ইতিহাস তাঁদেরকে স্তম্ভিত করেছে, বুধবারের শুনানিতেও সেই ছায়াই স্পষ্ট দেখা গেল।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে সল্টলেক ও কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে পুরসভার বুলডোজার নোটিশ, পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে দেবরাজ চক্রবর্তীর সিবিআই হেফাজত আর অন্যদিকে মাদ্রাসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের এই অনড় অবস্থান— সব মিলিয়ে রাজ্যের শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে এক বিরাট আইনি চাপ তৈরি হলো। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া পর্যবেক্ষণের পর মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের ভবিষ্যৎ এবং কর্মরত শিক্ষকদের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *