কর নির্ধারণে এবার কড়া কলকাতা পুরসভা, তথ্য তলব করা হলো খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৭টি সম্পত্তির

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মালিকানাধীন এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পত্তির কর পুনর্মূল্যায়নের জন্য বড়সড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা (কেএমসি)। বুধবার পুরসভার মূল্যায়ন বিভাগ থেকে নতুন করে নোটিশ জারি করে আগামী সাত দিনের মধ্যে এই সম্পত্তিগুলোর বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় পুরসভার মূল্যায়ন বিভাগের আধিকারিকরা সরাসরি ১২১, কালীঘাট রোডে গিয়ে এই নোটিশ পৌঁছে দেন, যা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রধান সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, এই নোটিশে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলো আবাসিক নাকি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই স্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ভবনের মোট আয়তন, সেখানে বর্তমানে কতজন ভাড়াটে রয়েছেন এবং ভবনটি ঠিক কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার সম্পূর্ণ বিবরণ জমা দিতে বলা হয়েছে। মূলত সম্পত্তির ব্যবহার ও ভাড়াটের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করেই প্রপার্টি ট্যাক্স বা সম্পত্তি কর নির্ধারিত হয়। বাণিজ্যিক ব্যবহার অথবা বেশি সংখ্যক ভাড়াটে থাকলে করের হার স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। আর সেই কারণেই এই তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পুর আধিকারিকদের মত।
জোড়া নোটিশ ও বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ
এর আগে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ১৭টি সম্পত্তির বিষয়ে পৃথক নোটিশ পাঠিয়েছিল। সেখানে অভিযোগ করা হয়, অনুমোদিত নকশা বা ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত এবং অননুমোদিত নির্মাণ করা হয়েছে। ওই নোটিশে সাত দিনের মধ্যে সেই অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলা অথবা কেন তা ভাঙা হবে না, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে আসল বিল্ডিং প্ল্যানসহ প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিও জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুর আধিকারিকদের বক্তব্য, একই সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিল্ডিং বিভাগ এবং মূল্যায়ন বিভাগ নিজস্ব এক্তিয়ার অনুযায়ী আলাদা আলাদা বিষয়ে নোটিশ জারি করতেই পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না এলে পুরসভা নিজের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতেই নতুন কর নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করবে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সম্পত্তির মালিককে শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক প্রভাব
শাসক দলের অন্যতম শীর্ষ নেতার সম্পত্তি নিয়ে পুরসভার এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে এই নোটিশ জারির বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক স্তরেই সীমাবদ্ধ বলে দাবি করা হয়েছে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, এই নোটিশ সম্পর্কে তাঁর আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কমিশনার স্তরেই নেওয়া হয়ে থাকে, যা মেয়রের নীতিগত সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে পুরসভার কর আদায় এবং নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রমাণের চেষ্টা যেমন স্পষ্ট হচ্ছে, তেমনই এটি আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।