কোটি টাকার সম্পত্তি ও আয়, কোন পথে রোজগার তৃণমূলের ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের

কোটি টাকার সম্পত্তি ও আয়, কোন পথে রোজগার তৃণমূলের ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ ভবনের চারপাশের পরিবেশ বদলে গেছে। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বাসভবনের দেওয়ালে একের পর এক নোটিস পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। দীর্ঘ এক দশক ধরে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ পদে থাকা এই তরুণ নেতার বার্ষিক আয় এবং উপার্জনের আসল উৎস ঠিক কী, তা নিয়ে এখন জনমনে তীব্র কৌতুহল তৈরি হয়েছে।

হলফনামায় আয়ের খতিয়ান

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া অভিষেকের নিজস্ব হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর আয়ের গ্রাফ বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৭১ লক্ষ ৫২ হাজার ২০০ টাকা। এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৬৭ লক্ষ ৩২ হাজার ৩৭০ টাকায়। তবে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় এক লাফে কোটি টাকার গণ্ডি পেরিয়ে ১ কোটি ৫১ লক্ষ ২৯ হাজার ১৭০ টাকায় পৌঁছায়। এর পরবর্তী ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৯০ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৪৩ টাকা এবং ৮২ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা।

উপার্জনের মূল উৎস

হলফনামায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আয়ের সুনির্দিষ্ট উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর উপার্জনের মূল ক্ষেত্রগুলো হলো সাংসদ পদের বেতন, বিভিন্ন ধরনের সরকারি সাম্মানিক ভাতা এবং ব্যাঙ্কের সঞ্চিত আমানতের সুদ। তিনি নিজের পেশা হিসেবে মূলত সাংসদ পদের কথাই হলফনামায় দেখিয়েছেন।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে সংশোধনীর পর একজন সাংসদ প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর বাইরে কন্সটিটিউয়েন্সি অ্যালাওয়েন্স বাবদ ৪৯ হাজার টাকা এবং অফিস খরচ বাবদ ৫৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে একজন সাংসদ প্রতি মাসে বেতন ও ভাতা হিসেবে মোট ১ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। এর বাইরেও বিভিন্ন ধরনের সংসদীয় ও প্রশাসনিক বৈঠকে যোগদানের জন্য দৈনিক এবং বিশেষ সাম্মানিক ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে, যা তাঁর সামগ্রিক আয়ের একটি বড় অংশ গঠন করেছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিরোধীদের তোলা আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ এবং এই আইনি নোটিস ইস্যু আগামীদিনে রাজ্য রাজনীতিতে অভিষেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *