CBI ডিরেক্টরের সঙ্গে শুভেন্দুর সাক্ষাৎ, নেপথ্যে কী সমীকরণ?

CBI ডিরেক্টরের সঙ্গে শুভেন্দুর সাক্ষাৎ, নেপথ্যে কী সমীকরণ?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করে নবান্নে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-এর ডিরেক্টর প্রবীণ সুদ এবং রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ১৩ মে রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি মামলায় সিবিআই-কে তদন্তের দ্রুত ছাড়পত্র দেয় শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। সেই বিশেষ অনুমোদনের পর বুধবারের এই হাইপ্রোফাইল বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

তদন্তে গতি ও পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় গ্রেফতারি

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই বিভিন্ন দুর্নীতি মামলার তদন্তে নজিরবিহীন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ এবং সমবায় দুর্নীতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই তৎপরতার অংশ হিসেবেই গত ১১ মে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসু। প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে অসঙ্গতি এবং অসহযোগিতার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ইডির দাবি, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম ও হালিশহরসহ একাধিক পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক কারচুপি হয়েছিল, যার সঙ্গে তৎকালীন পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত সুজিত বসুর সরাসরি যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরজি কর কাণ্ডে সন্দীপ ঘোষের বিচারে সবুজ সংকেত

সিবিআই ডিরেক্টরের এই সফরের নেপথ্যে আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তও একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ ছিল, পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে আরজি কর কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর অনুমতি আটকে রাখা হয়েছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার সেই বহুপ্রতীক্ষিত অনুমতি দিয়ে দিয়েছে।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বতন সরকারের আমলে আটকে থাকা একাধিক দুর্নীতির ফাইলের জট খুলতেই মূলত এই বৈঠকের আয়োজন। একদিকে সুজিত বসুর গ্রেফতারি এবং অন্যদিকে সন্দীপ ঘোষের বিচারের অনুমতি—এই দুই আবহে সিবিআই প্রধানের নবান্ন সফর স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে রাজ্যে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি মামলার তদন্তের পরিধি এবং গতি দুই-ই আরও বৃদ্ধি পেতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *