১৫ বার ধামাচাপা পড়া ফাইল অবশেষে প্রকাশ্যে, বেআইনি নির্মাণ বিতর্কে এবার পুরসভার নোটিস পেলেন অভিষেক

১৫ বার ধামাচাপা পড়া ফাইল অবশেষে প্রকাশ্যে, বেআইনি নির্মাণ বিতর্কে এবার পুরসভার নোটিস পেলেন অভিষেক

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কলকাতার একাধিক বিতর্কিত নির্মাণ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুরনিগম। শহরের বিভিন্ন বেআইনি কাঠামোর বিরুদ্ধে পুর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অভিযানের তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তাঁর মালিকানাধীন ও পারিবারিক বেশ কিছু সম্পত্তিতে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ তুলে পুরনিগমের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠানো হয়েছে। তবে পুরসভার অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, এই অভিযোগ একেবারেই নতুন নয়; অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্তত ১৫ বার এই সংক্রান্ত ফাইল ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগের তির যেখানে

সম্প্রতি কলকাতা পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগ থেকে ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ নামক একটি বাড়িতে নোটিস পাঠানো হয়েছে, যার মালিকানায় রয়েছে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থা। এর পাশাপাশি কালীঘাট রোডের বাসিন্দা, অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেও পৃথক নোটিস গিয়েছে। পুরসভার তদন্তে দেখা গেছে, শুধু এই বাড়িগুলিই নয়, কালীঘাট রোডে ফুটপাথ দখল করে পার্টি অফিস তৈরি এবং অভিষেকের নিজস্ব বাড়ি ও অফিসেও নিয়মনীতি বহির্ভূত নির্মাণ করা হয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সম্পত্তির অবৈধ অংশ অনতিবিলম্বে ভেঙে ফেলতে হবে, অন্যথায় কেন পুর কর্তৃপক্ষ কড়া পদক্ষেপ করবে না, তার সন্তোষজনক জবাবদিহি করতে হবে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক তৎপরতা

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একাধিকবার এই নির্মাণগুলি নিয়ে অভিযোগ জমা পড়লেও অজ্ঞাত কারণে তা ফাইলবন্দি হয়ে থাকত। রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতেই পুরনিগম স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করেছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, আইন সবার জন্য সমান। সরকারের অনুমতি ছাড়া বা নিয়ম লুকিয়ে কোনও নির্মাণ করা হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না, নোটিসের প্রাপক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি সাধারণ কোনও নাগরিক, তা বিবেচনা করবে না প্রশাসন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে শহরের বুকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গজিয়ে ওঠা বেআইনি আবাসন ও বাণিজ্যিক নির্মাণগুলির বিরুদ্ধে পুরসভার অভিযান আরও গতি পাবে। দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা পড়ে থাকা ফাইলগুলি প্রকাশ্যে আসায় প্রশাসনের স্বচ্ছতা যেমন ফিরবে, তেমনই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বেআইনি সম্পত্তির ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *