শেষ মুহূর্তে পিছু হঠলেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির, ফলতায় দলের মুখ পুড়তেই শাস্তির দাবিতে সরব তৃণমূলেরই বিধায়ক

পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে ভোট ময়দান থেকে সরে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছেন ফলতার দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খান। দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে নিজেকে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার শাসকদলের অন্দরেই তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জাহাঙ্গিরের এই আকস্মিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরের গৃহদাহ এখন প্রকাশ্যে। এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা।
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জাহাঙ্গির খান দাবি করেন, ফলতার মানুষের শান্তি রক্ষার স্বার্থেই তিনি এই নির্বাচনে লড়বেন না। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট জানানো হয়, এটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই ব্যাখ্যায় দলের অন্দরের ক্ষোভ কমেনি। বিশেষ করে পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দলের নেতা-কর্মীদের মনোবলকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
সাম্রাজ্য শেষের ইঙ্গিত ও সন্দীপনের তোপ
জাহাঙ্গির খানের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা স্পষ্ট জানান, ফলতার বুকে জাহাঙ্গির এমন এক সাম্রাজ্য চালাতেন যেখানে তাঁর অনুমোদন ছাড়া কোনো কাজ হতো না। এলাকায় তাঁর কথাই শেষ কথা ছিল। নিজেকে ‘পুষ্পা’ সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করা এই নেতার হঠাৎ লড়াই ছেড়ে পালিয়ে যাওয়াকে দলের জন্য লজ্জাজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, ভোটে হার-জিত থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে কেন এই সাহসের অভাব দেখা গেল? সিনেমাটিক সংলাপ আউড়ানো ‘পুষ্পা’ কেন ভোটের আগেই এভাবে ঝুঁকে গেলেন, তা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিধায়ক।
ভোটের মাঠে সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের আবহে ফলতায় এই পুনর্নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই পরিস্থিতিতে একজন প্রভাবশালী নেতার প্রচার শেষের মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোয় নীচের তলার কর্মীদের মনোবল এক ধাক্কায় অনেকটাই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর ফলে ভোটের বাক্সে শাসকদলের বড়সড় খেসারত দিতে হতে পারে। এই কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণের জন্য জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে দল যাতে অবিলম্বে কড়া এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করে, সেই আবেদনই জোরালো হচ্ছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে।