পরিবারের সবার কি একসঙ্গে কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত? সত্যিটা ফাঁস করলেন নামী ডাক্তার

পরিবারের সবার কি একসঙ্গে কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত? সত্যিটা ফাঁস করলেন নামী ডাক্তার

সবার কি একসঙ্গে কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত, সত্যিটা জানালেন বিশিষ্ট চিকিৎসক

আমাদের দেশে ছোট থেকে বড়, অনেকের শরীরেই বাসা বাঁধতে পারে কৃমি নামের ক্ষতিকর পরজীবী। অন্ত্রে অবস্থান করে এটি মানবদেহের পুষ্টি উপাদান শোষণের মাধ্যমে বেঁচে থাকে এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বংশবিস্তার করে। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি অপুষ্টি থেকে শুরু করে অ্যানিমিয়া বা মারাত্মক রক্তাল্পতার মতো জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়তে পারেন। তবে এই রোগ নিয়ে সমাজে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণার কারণে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই পরিবারের সবাইকে একসাথে কৃমির ওষুধ খাইয়ে দেন, যা মোটেও কাম্য নয়।

সবার ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত

সাধারণত অ্যালবেনডাজোল জাতীয় কার্যকরী ওষুধের মাধ্যমে কৃমির সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে পরিবারের একজনকে কৃমি আক্রমণ করলেই যে সবাইকে একসঙ্গে ওষুধ খেতে হবে, বিষয়টি সবসময় তেমন নয়। অনেক সময় শুধুমাত্র আক্রান্ত রোগীকে নির্দিষ্ট ওষুধ দিলেই সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা পুরো পরিবারকে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। রোগীকে একা ওষুধ দেওয়া হবে নাকি পরিবারের সবাইকে খেতে বলা হবে, এই সিদ্ধান্তটি একান্তই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।

লক্ষণ ও সংক্রমণের মূল কারণ

কৃমির প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে পেট ব্যথা, ক্লান্তি, দুর্বলতা ও পায়ুপথে চুলকানি। শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে, যেমন—ওজন কমে যাওয়া, ব্রেনের ধীর বিকাশ এবং পুষ্টিহীনতা। দূষিত খাবার ও অনিরাপদ জলর মাধ্যমেই মূলত এই পরজীবী মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। যে কারণে যেসব অঞ্চলে দারিদ্র্য বেশি এবং পরিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র অভাব রয়েছে, সেখানে কৃমি সংক্রমণের হার অনেক বেশি দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, মাছ, মাংস ও শাকসবজি ভালো করে রান্না করা, নখ ছোট রাখা, খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং সর্বদা বিশুদ্ধ জল পান করার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এক ঝলকে

  • কৃমি অন্ত্রে বাসা বেঁধে পুষ্টি শোষণ করে, যার ফলে মানুষের শরীরে মারাত্মক রক্তাল্পতা ও অপুষ্টি দেখা দিতে পারে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পরিবারের সবার একসাথে কৃমির ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়, কারণ সবার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন নাও হতে পারে।
  • দূষিত খাদ্য ও অনিরাপদ জলর মাধ্যমে এই পরজীবী ছড়ায় এবং সাধারণত অ্যালবেনডাজোল জাতীয় ওষুধে এর নিরাময় হয়।
  • পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, হাত ধুয়ে খাবার খাওয়া এবং বিশুদ্ধ জল পানের মাধ্যমে কৃমির সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *