‘কেউ রুখতে পারবে না!’ বকরি ঈদে কুরবানি নিয়ে শুভেন্দু সরকারকে খোলা চ্যালেঞ্জ হুমায়ুন কবীরের

‘কেউ রুখতে পারবে না!’ বকরি ঈদে কুরবানি নিয়ে শুভেন্দু সরকারকে খোলা চ্যালেঞ্জ হুমায়ুন কবীরের

বকরি ইদে কুরবানি রুখতে পারবে না কেউ, শুভেন্দু সরকারকে খোলা চ্যালেঞ্জ হুমায়ুনের

আসন্ন বকরি ইদকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে পশুজবাই সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের জারি করা এই নির্দেশিকাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP) নেতা তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে কোনো মূল্যে রাজ্যে কুরবানি উৎসব উদযাপিত হবে এবং গরু, ছাগল ও উটসহ কুরবানির যোগ্য সব পশুরই কুরবানি দেওয়া হবে। চৌদ্দশত বছরের প্রাচীন এই ধর্মীয় ঐতিহ্যকে কেউ বন্ধ করতে পারবে না বলে তিনি হুঙ্কার দিয়েছেন।

সরকারি কড়াকড়ি ও রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ

রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন এবং পূর্ববর্তী আদালতের রায়কে ভিত্তি করে গত ১৩ মে একটি কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সী গরু, বাছুর, ষাঁড় বা মোষের মতো গবাদি পশু বিশেষ শারীরিক অক্ষমতা বা দুরারোগ্য ব্যাধি ছাড়া সাধারণ পরিস্থিতিতে জবাই করা যাবে না। সরকারের এই আইনি কড়াকড়ির কারণেই মূলত এই রাজনৈতিক বিরোধের সূত্রপাত ঘটেছে, যা উৎসবের প্রাক্কালে রাজ্যে এক ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

ধর্মীয় নেতৃত্ব বনাম রাজনৈতিক অনড় অবস্থান

সরকারি এই নির্দেশিকার প্রেক্ষিতে ফুরফুরা শরিফ এবং নাখোদা মসজিদের মতো শীর্ষস্থানীয় মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলি আইনি জটিলতা ও সামাজিক অশান্তি এড়াতে প্রশাসনকে সহযোগিতার বার্তা দিয়েছে। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ বছর গরু কুরবানি থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন এবং নাখোদা মসজিদ কর্তৃপক্ষও আইন মেনে প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ধর্মীয় নেতাদের এই নমনীয় মনোভাবের বিপরীতে গিয়ে হুমায়ুন কবীরের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এই অনড় ও চ্যালেঞ্জিং অবস্থান আগামী দিনে রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • বকরি ইদে গবাদি পশু কুরবানি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
  • ১৪ বছরের কম বয়সী গরু বা বাছুর জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে গত ১৩ মে নির্দেশিকা দিয়েছে রাজ্য সরকার।
  • আইনি জটিলতা ও বিতর্ক এড়াতে ফুরফুরা শরিফ ও নাখোদা মসজিদ কর্তৃপক্ষ সরকারি নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
  • এই নির্দেশিকা এবং পাল্টা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের ফলে উৎসবের মুখে রাজ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *