স্বাক্ষর জটেই কি আটকে তৃণমূলের বিরোধী দলের মর্যাদা

রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসকে এখনও বিরোধী দলের মর্যাদা না দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জলঘোলা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক বৈঠক করে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাস। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রক্রিয়াগত ত্রুটি এবং প্রয়োজনীয় নথির অভাবেই মূলত এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে গলদ ও বিধানসভার নিয়ম
বিধানসভার সচিব জানিয়েছেন, তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে ডেপুটি লিডার ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্তটি কবে পাস হয়েছিল, চিঠিতে তার কোনো উল্লেখ ছিল না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ওই চিঠির সঙ্গে দলের বিধায়কদের কোনো স্বাক্ষর সংবলিত প্রস্তাবপত্র জমা দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভার অধ্যক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর নির্দেশ দিয়েছেন যে, বিধায়কদের স্বাক্ষরসহ প্রস্তাবপত্র সচিবালয়ে জমা দিলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পাল্টা যুক্তি ও জটিলতা অবসানের আশা
অন্য দিকে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর যুক্তি, অধিবেশনের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি নিজেই অধ্যক্ষকে হাত ধরে তাঁর চেয়ারে বসিয়েছিলেন। এরপরও কেন এই ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিধানসভার সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র অধ্যক্ষেরই রয়েছে এবং তিনি যেকোনো বিষয়ে তথ্য চেয়ে পাঠাতে পারেন।
এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু করেছে তৃণমূল শিবির। কালীঘাটে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, বিধায়কদের স্বাক্ষরসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে বিধানসভা সচিবালয়কে দ্রুত নতুন চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এই নতুন চিঠি জমা পড়লেই বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ও বিরোধী দলের মর্যাদা সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা কেটে যাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।