নজিরবিহীন ক্র্যাকডাউন! দুর্নীতি রুখতে এবার খোদ সরকারি অফিসারদের বিরুদ্ধেও এফআইআর-এর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,800&ssl=1)
সরকার গঠনের দ্বিতীয় সপ্তাহেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং বিগত জমানার কেলেঙ্কারির শিকড় উপড়ে ফেলতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নবান্ন। পঞ্চায়েত, খাদ্য এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি— এই তিন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের একগুচ্ছ বড় অনিয়মের তদন্তে শুধু ঠিকাদার বা ভুয়ো সুবিধাভোগী নয়, যে সমস্ত সরকারি আধিকারিক দুর্নীতির ফাইলে সই করেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা (FIR) রুজু করার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাধারণত দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত বা বড়জোর সাময়িক বরখাস্তের পথে হাঁটে সরকার। কিন্তু শুরুতেই খোদ আমলা ও অফিসারদের নাম সরাসরি এফআইআর-এ জড়ানোর এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারি অর্থের অপচয় এবং সাধারণ মানুষের অধিকার হরণকারীদের কোনও রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা বিবেচনা না করেই সোজা হাজতে পাঠানোর স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশে।
তিন দফতরের মেগা কেলেঙ্কারি ও কড়া পদক্ষেপ
পঞ্চায়েত দফতরের অধীনস্থ ‘বাংলার আবাস’ যোজনার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকৃত যোগ্য বহু মানুষ বঞ্চিত হলেও প্রভাবশালীদের মদতে বহু অযোগ্য ব্যক্তি পাকা বাড়ি হাতিয়ে নিয়েছেন। এই চক্র রুখতে অযোগ্য সুবিধাভোগীদের পাশাপাশি যে সমস্ত পঞ্চায়েত স্তর ও সরকারি আধিকারিক নিয়ম ভেঙে যাচাই না করেই ফাইলে অনুমোদন দিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খাদ্য দফতরের রেশন কেলেঙ্কারি রুখতেও একই রকম কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তি বা অস্তিত্বহীন ভুয়ো কার্ডের মাধ্যমে মাসের পর মাস ডিজিটাল রেশন সামগ্রী খোলা বাজারে পাচার করার চক্রে যুক্ত খাদ্য দফতরের ইন্সপেক্টর ও উচ্চপদস্থ অফিসারদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘জল জীবন মিশন’-এ মাটির নিচে অত্যন্ত নিম্নমানের পাইপ বিছিয়ে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনায় যুক্ত পাইপ সরবরাহকারী সংস্থা ও ঠিকাদারদের পাশাপাশি যে ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরা সাইট ভিজিট না করেই বিল পাস করিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার নিদান দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক অন্দরে কম্পন ও সম্ভাব্য প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা ক্র্যাকডাউনের জেরে নবান্নের অলিন্দে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে সরকারি ফাইল ছাড়ার ক্ষেত্রে আমলা ও আধিকারিকদের জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। নিচু স্তর থেকে উচ্চপদস্থ স্তর পর্যন্ত দুর্নীতির যে প্রাতিষ্ঠানিক চক্র গড়ে উঠেছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তা বড়সড় ধাক্কা খেল। পাশাপাশি, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি ও তছরুপের প্রবণতা হ্রাস পেয়ে প্রকৃত সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছানোর পথ সুগম হতে পারে।