আদালতের পথে নয়, সোজা সীমান্তে! অনুপ্রবেশ রুখতে পুলিশের জন্য কী কঠোর নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

আদালতের পথে নয়, সোজা সীমান্তে! অনুপ্রবেশ রুখতে পুলিশের জন্য কী কঠোর নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ সমস্যা রুখতে এক নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার থেকে হাওড়া স্টেশনে কোনও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাঁদের আর আদালতে পেশ করার দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়ার পথে যাবে না পুলিশ। পরিবর্তে, ধৃতদের সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার হাওড়ায় সমস্ত প্রশাসনিক আধিকারিক ও পুলিশ কর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারকে এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়া স্টেশনকে অনুপ্রবেশকারীদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানান, হাওড়া স্টেশনে কোনও অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আর আদালতে পেশ করার প্রয়োজন নেই; তাঁদের খাইয়ে-দাইয়ে সোজা বনগাঁ দিয়ে বিএসএফের হাতে সঁপে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত বুধবারই কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনে পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি ‘পুশব্যাক’ আইন কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, পুলিশ ধৃত অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে সঁপে দেবে এবং বিএসএফ আন্তর্জাতিক প্রটোকল মেনে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) সঙ্গে কথা বলে তাঁদের স্বদেশে ফেরত পাঠাবে। মূলত আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুত অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠাতেই এই বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

সিএএ-র সুরক্ষাকবচ ও বৈধ-অবৈধের স্পষ্ট বিভাজন

নবান্নের এই আকস্মিক ও কড়া আইনের জেরে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে এ দেশে চলে আসা মতুয়া জনগোষ্ঠী এবং অনগ্রসর শরণার্থী হিন্দুদের মনে নতুন করে এক গভীর শঙ্কা ও আতঙ্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে। তবে এই বিভ্রান্তি দূর করতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, সিএএ-র আওতায় থাকা হিন্দু ধর্মাবলম্বী কিংবা প্রতিবেশী তিন রাষ্ট্র (বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান) থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে আসা সংখ্যালঘুদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাঁরা নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনেই ভারতের স্থায়ী নাগরিকত্ব পাবেন।

অনুপ্রবেশকারী ও প্রকৃত শরণার্থীদের মধ্যকার ফারাক স্পষ্ট করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত ৭টি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ, যাঁরা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারত তথা বাংলায় চলে এসেছেন, তাঁদের পুলিশ কোনও ভাবেই হেনস্থা বা আটক করতে পারবে না। তাঁরা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। কিন্তু যাঁরা সিএএ-র এই আওতার মধ্যে পড়েন না, তাঁরা পুরোপুরি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য হবেন। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে একদিকে যেমন সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ নজরদারি আরও জোরদার হবে, অন্যদিকে প্রকৃত শরণার্থীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করে অনুপ্রবেশের ট্রানজিট রুটগুলোতে পুলিশের তৎপরতা এক ধাক্কায় বহু গুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *