হজের আগেই ট্রাম্পের ইউ-টার্ন! ইরানকে ছেড়ে হঠাৎ কেন পরমাণু চুক্তির পথে আমেরিকা?

হজের আগে যুদ্ধ এড়াতে মার্কিন রণকৌশলে বড় বদল, ট্রাম্পকে পিছু হটালো আরব দুনিয়া!
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ চড়ার মাঝেই আমেরিকা ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক অভাবনীয় কূটনৈতিক মোড় দেখা গেছে। কিছুদিন আগেও ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক অভিযানের জল্পনা যেখানে তুঙ্গে ছিল, সেখানে হঠাৎ করেই আলোচনার টেবিলে ফিরছে দুই দেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনরায় পরমাণু চুক্তি নবায়নের পথে হাঁটছেন। ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক ভোলবদলের নেপথ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) এবং কাতারের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর জোরালো কূটনৈতিক চাপ ও মধ্যস্থতা কাজ করেছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে।
আরব বিশ্বের নিরাপত্তা ও হজের পবিত্রতা রক্ষা
মূলত আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া পবিত্র হজ যাত্রাকে কেন্দ্র করেই এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব থেকে সরে এসেছে আমেরিকা। সৌদি আরব ও ইউএই স্পষ্ট জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মুসলিম পুণ্যার্থীর উপস্থিতির সময়ে যুদ্ধ শুরু হলে তা পুরো অঞ্চলে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করবে। তা ছাড়া, মার্কিন হামলার জবাবে ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শক্তি দিয়ে রিয়াদ বা আবু ধাবির মতো বাণিজ্যিক শহরগুলোতে পাল্টা আঘাত হানে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে। একই সঙ্গে পবিত্র ধর্মীয় উৎসবের সময়ে এমন আগ্রাসন মুসলিম বিশ্বে আমেরিকার ভাবমূর্তি চিরতরে ক্ষুণ্ণ করবে বলেও ওয়াশিংটনকে সতর্ক করা হয়েছে।
অস্থায়ী পরমাণু চুক্তি ও জটিল সমীকরণ
যুদ্ধ এড়াতে কাতারের মধ্যস্থতায় হজের আগেই ইরানের কাছে একটি অস্থায়ী পরমাণু চুক্তির খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছে আমেরিকা। তবে এই আলোচনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে এখনও সংশয় কাটেনি। আমেরিকার পাঠানো প্রস্তাবকে তেহরান “আলোচনাযোগ্য” মনে করলেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বাইরে পাঠাতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ইরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি কেবলই শক্তি উৎপাদন ও গবেষণার জন্য, কোনো সামরিক উদ্দেশ্যে নয়। ফলে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কৌশলগত আধিপত্যের চাপ এবং ইউরেনিয়াম মজুদের শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের এই রশি টানাটানি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
এক ঝলকে
- ২৪ মে থেকে হজ শুরু হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইরানের ওপর সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- যুদ্ধ এড়াতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাতারকে মধ্যস্থতাকারী করে ইরানকে একটি অস্থায়ী পরমাণু চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা।
- মার্কিন হামলা হলে রিয়াদ ও আবু ধাবিতে ইরানের পাল্টা ড্রোন ও মিসাইল হামলার আশঙ্কায় ছিল উপসাগরীয় দেশগুলো।
- ইরান এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক বললেও দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বাইরে পাঠানোর মার্কিন শর্তে রাজি নন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই।