ছাব্বিশের ভোট মিটতেই বড় অ্যাকশন! পুলিশের জালে মানস ভূঁইয়ার ‘ছায়াসঙ্গী’ তরুণ

অবশেষে খাঁচায় মানস-ঘনিষ্ঠ তরুণ মিশ্র, একুশের ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ পুলিশের
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলায় অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন সবংয়ের অতি-প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তরুণ মিশ্র। সবং পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহন কর্মাধ্যক্ষ তরুণকে গ্রেফতার করেছে সবং থানার পুলিশ। দীর্ঘদিনের পুরনো মামলায় পুলিশের এই আকস্মিক সক্রিয়তা এবং হেভিওয়েট নেতার শ্রীঘরে যাওয়ার ঘটনায় সবং তথা গোটা মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া থেকে শুরু করে ফল প্রকাশের পর বিরোধীদের ওপর রক্তক্ষয়ী আক্রমণ चलानेর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল তরুণের বিরুদ্ধে। এতদিন এই মামলাগুলি একপ্রকার চাপা পড়ে থাকলেও, পুলিশ আচমকায় পুরনো ফাইল খুলে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের হাইপ্রোফাইল বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন এই নেতাকে ভবানীপুর কেন্দ্রে জোড়াপুলের সমর্থনে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল।
রাজনীতিতে প্রভাব ও তরুণের গ্রেফতারির ধাক্কা
সবংয়ের রাজনীতিতে তরুণ মিশ্র এলাকার প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক তথা হেভিওয়েট নেতা মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবেই পরিচিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, মানসবাবুর ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই একুশ পরবর্তী সময়ে সবংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালানোর সাহস পেয়েছিলেন তরুণ। ফলে এই গ্রেফতারির জেরে পরোক্ষভাবে মানস ভূঁইয়ার ওপরও তীব্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি হলো। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, পুলিশের একাংশের মদতেই এতদিন বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তরুণ। অবশেষে তিনি গ্রেফতার হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে এলাকার মানুষ। তবে ভোট মিটতেই এই হঠাৎ গ্রেফতারির পিছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এক ঝলকে
- একুশের বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসা ও বিরোধীদের ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেফতার সবংয়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা তরুণ মিশ্র।
- ধৃত তরুণ মিশ্র সবং পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহন কর্মাধ্যক্ষ এবং বিধায়ক মানস ভূঁইয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবে পরিচিত।
- সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ভবানীপুর কেন্দ্রে শাসকদলের হয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালিয়েছিলেন এই নেতা।
- দীর্ঘদিন ধরে মামলা চাপা থাকার পর পুলিশের এই আকস্মিক পদক্ষেপে মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।