হর হর মহাদেব ধ্বনিতে মুখরিত হবে আকাশ! কৈলাস মানসসরোবর যাত্রার জন্য নির্বাচিত ১০০০ পুণ্যার্থী

হর হর মহাদেব ধ্বনিতে মুখরিত হবে আকাশ! কৈলাস মানসসরোবর যাত্রার জন্য নির্বাচিত ১০০০ পুণ্যার্থী

অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হতে চলেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র তীর্থক্ষেত্র কৈলাশ মানসरोवर যাত্রা। আগামী জুন ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে আগস্ট পর্যন্ত চলমান এই ঐতিহাসিক যাত্রার জন্য এবার ১০০০ জন ভাগ্যবান তীর্থযাত্রীকে চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। নির্বাচিত श्रद्धालुओं ইতিমধ্যেই ইমেল এবং এসএমএসের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সহজ পথ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা

দীর্ঘদিন ধরে কৈলাশ মানসरोवर যাত্রা অত্যন্ত দুর্গম ও কষ্টসাধ্য হিসেবে পরিচিত হলেও, এবার তীর্থযাত্রীদের জন্য থাকছে বড় স্বস্তির খবর। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, যাত্রাপথের লিপিলেখ এবং নাথুলা গিরিপথ দুটি এখন পুরোপুরি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। ফলে পূর্বের তুলনায় এবার পুণ্যার্থীদের অনেক কম দূরত্ব পায়ে হাঁটতে হবে, যা প্রবীণ ও শারীরিকভাব দুর্বল যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক হবে। মোট ২০টি দলে ভাগ হয়ে প্রতি জথ্থায় ৫০ জন করে যাত্রী এই দুটি পথ দিয়ে তিব্বতের পবিত্র কৈলাশ পর্বত ও মানসरोवर হ্রদের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

কূটনৈতিক জটিলতা ও ভারতের দৃঢ় অবস্থান

সাম্প্রতিক সময়ে লিপিলেখ গিরিপথ দিয়ে ভারতের এই বার্ষিক তীর্থযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল আপত্তি জানিয়েছিল এবং অঞ্চলটিকে নিজেদের দাবি করেছিল। তবে ভারত সরকার নেপালের এই ভিত্তিহীন দাবিকে শুরুতেই সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এই যাত্রা নির্বিঘ্নে পরিচালনা করার মাধ্যমে নয়া দিল্লি নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফলে কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক টানাপোড়েন ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে এই ধর্মীয় উৎসব সম্পন্ন হতে চলেছে।

এক ঝলকে

  • জুন ২০২৬ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এবারের কৈলাশ মানসरोवर যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
  • কম্পিউটারাইজড লটারির মাধ্যমে দেশজুড়ে মোট ১০০০ জন তীর্থযাত্রীকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
  • ৫০ জন করে পুণ্যার্থী মোট ২০টি দলে বিভক্ত হয়ে লিপিলেখ ও নাথুলা গিরিপথ দিয়ে যাত্রা করবেন।
  • দুটি পথই এখন শতভাগ যানবাহন চলাচলের উপযোগী হওয়ায় এবার পায়ে হাঁটার কষ্ট অনেকটাই কমবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *