স্কুলের পোশাকেও থাবা বসাল কাটমানি চক্র, সিউড়িতে তীব্র ক্ষোভের মুখে প্রশাসন!

তৃণমূল জমানায় স্কুলের পড়ুয়াদের পোশাক তৈরিতেও এবার কাটমানি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ সামনে এল। সরকারি প্রকল্পের এই কাজকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এই মুহূর্তে তোলপাড় বীরভূমের সিউড়ি ১ নম্বর ব্লক। স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বঞ্চিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা, বহিরাগতদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ
বিতর্কের সূত্রপাত ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের আওতাধীন একটি প্রশিক্ষণকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এই প্রকল্পের অধীনে স্কুলের পোশাক কাটা ও সেলাইয়ের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি নিয়ম মেনে এই পোশাক তৈরির কাজ তাঁদেরই পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ, তাঁদেরকে কাজ না দিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে মুর্শিদাবাদ থেকে কয়েকজন এজেন্ট এনে কাজ করানো হয়েছে। আন্দোলনকারী মহিলাদের দাবি, কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কাটমানি বা কমিশন দাবি করা হয়েছিল। চরম অভাবের মধ্যেও সেই শর্ত মানা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের ভাগ্য খোলেনি, উল্টো কাজ চলে গেছে বহিরাগতদের হাতে। ফলে প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা।
প্রশাসনের তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বঞ্চিত মহিলারা। সম্প্রতি সিউড়ির নবনির্বাচিত বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে তাঁরা সবিস্তারে এই বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। বিধায়কের হস্তক্ষেপে এবং বিডিও-কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তার পরেই নড়েচড়ে বসেছে ব্লক প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগকারী মহিলাদের সমস্ত বক্তব্য লিখিত আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে। একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তকারী দল গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের পক্ষ থেকেও পাল্টা কিছু দাবি করা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি স্তরে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রকল্পে এমন দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তা আগামী দিনে প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের ওপর বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।