কান্নায় ভেঙে পড়ল সিমলাপাল, বীর জওয়ানের কফিনবন্দি দেহ ফিরতেই বাঁকুড়ায় শোকের ছায়া

ছত্তিশগড়ে কর্তব্যরত অবস্থায় অকালপ্রয়াত বাঁকুড়ার বীর সিআরপিএফ জওয়ান শুভাশিস দে-র কফিনবন্দি মরদেহ অবশেষে গ্রামে ফিরল। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর নিথর দেহ সিমলাপালের বাড়িতে পৌঁছাতেই গোটা এলাকায় এক আবেগঘন ও শোকাকুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ৩৩ বছর বয়সী এই তরুণ জওয়ানকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মাঝরাতেই রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ।
শেষযাত্রায় জনজোয়ার ও রাষ্ট্রীয় সম্মান
শুভাশিস দে সিআরপিএফ-এর ১৬৫ নম্বর ব্যাটেলিয়ানে কর্মরত ছিলেন এবং সম্প্রতি ছত্তিশগড়ের রায়পুরে পোস্টিং ছিলেন। গত মঙ্গলবার সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার রাতে যখন তাঁর মরদেহ সিমলাপাল বাজারের নিজ বাসভবনে নিয়ে আসা হয়, তখন পরিবার ও প্রতিবেশীদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। প্রিয় জওয়ানকে শেষ বিদায় জানাতে সাধারণ মানুষের ঢল নামে। উপস্থিত জনতা ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনিতে এলাকা কাঁপিয়ে তোলেন। রাতেই স্থানীয় শিলাবতী নদীর তীরে সিমলাপালের সতীঘাটে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এই বীর সন্তানকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন তালডাংরা বিধানসভার বিধায়ক সৌভিক পাত্র ও প্রাক্তন বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহ।
অকালমৃত্যুর কারণ ও পরিবারের ভবিষ্যৎ
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে রায়পুরে ডিউটি করার সময় আচমকাই মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন শুভাশিস। সহকর্মীরা তাঁকে দ্রুত জগদলপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করলেও চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে গত মঙ্গলবার তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে শুভাশিস ছিলেন সবার বড়, যার ওপর পুরো পরিবারের অনেক ভরসা ছিল। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবারটি সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল। তিনি পেছনে রেখে গেলেন তাঁর স্ত্রী ও একটি নাবালিকা কন্যাসন্তানকে।
সমাজ ও এলাকায় সম্ভাব্য প্রভাব
শুভাশিসের মতো একজন তরুণ ও চটপটে জওয়ানের এভাবে চলে যাওয়া শুধু তাঁর পরিবারের জন্যই নয়, বরং গোটা সিমলাপাল অঞ্চলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় এই মৃত্যু স্থানীয় যুবসমাজের মধ্যেও গভীর রেখাপাত করেছে। এলাকার একমাত্র উপার্জনক্ষম বড় ছেলের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটির আর্থিক ও মানসিক ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই শহিদ পরিবারটিকে আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।