যোগ্য হোন বা বহুকাল চাকরি করুন, অনিয়ম প্রমাণিত হলে চাকরি খোয়াতেই হবে! মাদ্রাসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা

যোগ্য হোন বা বহুকাল চাকরি করুন, অনিয়ম প্রমাণিত হলে চাকরি খোয়াতেই হবে! মাদ্রাসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা

বাংলার মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে চলা মামলায় এবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কড়া পর্যবেক্ষণ জানাল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এই মামলার শুনানির সময় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো প্রার্থী যতই যোগ্য হোন কিংবা দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করে আসুন না কেন— নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যদি কোনো রকম অনিয়ম বা বেআইনি পদক্ষেপ প্রমাণিত হয়, তবে সেই চাকরি বাতিল হতেই হবে।

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যখন নতুন শুভেন্দু অধিকারী সরকার শিক্ষা দফতরসহ সমস্ত সরকারি বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে একাধিক প্রশাসনিক সংস্কার করছে, ঠিক তখনই মাদ্রাসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান রাজ্য রাজনীতি ও শিক্ষা মহলে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে।

আইনজীবীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ধারাল সওয়াল বিচারপতির

মামলার শুনানির সময় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বর্তমান চাকরিরত শিক্ষকদের আইনজীবীদের একের পর এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নে কার্যত কোণঠাসা করে দেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বারবার জানতে চান, এই শিক্ষকদের চাকরি পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি আদেও আইনসম্মত ছিল কি না।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি মূলত যে বিষয়গুলির ওপর জোর দেন:

  • বিজ্ঞাপন ও যোগ্যতা: নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির নিয়ম মেনে, শূন্যপদের সঠিক তালিকা দেখে এবং পরীক্ষা ও যোগ্যতার সমস্ত মাপকাঠি পূরণ করেই কি এই শিক্ষকেরা চাকরি পেয়েছিলেন?
  • সরকারি অনুমতি বনাম ম্যানেজিং কমিটির দাপট: কে কোন পদে চাকরি পাবেন, তা কি নিয়ম অনুযায়ী সরকারি অনুমোদন বা মেধা তালিকা মেনে হয়েছিল, নাকি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি নিজেদের খেয়ালখুশি ও ইচ্ছামতো এই নিয়োগের তালিকা তৈরি করেছিল?

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্যসহনশীলতা

আইনজীবীদের একাংশের দাবি, বহু শিক্ষক বছরের পর বছর ধরে সততার সাথে পড়িয়ে আসছেন এবং তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে কোনো দুর্নীতির সাথে যুক্ত নন। কিন্তু এই যুক্তির জবাবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয় যে, যদি নিয়োগের মূল পরিকাঠামো বা পদ্ধতিতেই গলদ এবং অনিয়ম থাকে, তবে কেবল ‘দীর্ঘদিন চাকরি করার’ দোহাই দিয়ে বেআইনি কিছুকে বৈধতা দেওয়া যায় না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) পাশাপাশি মাদ্রাসা নিয়োগেও দুর্নীতির এই গভীর ক্ষত সামনে আসায় পূর্বতন তৃণমূল জমানার ওপর চাপ আরও বাড়ল। অন্যদিকে, নতুন সরকারের আমলে স্কুল ও মাদ্রাসায় সংস্কার আনার যে প্রক্রিয়া চলছে, সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া পর্যবেক্ষণ তাতে আরও গতি আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই শুনানির পর কতজন শিক্ষকের চাকরি শেষ পর্যন্ত বহাল থাকে, আর কতজনের ভাগ্য ঝুলে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *