বিজেপির চালে কি কোণঠাসা মমতা, সত্যিই কি শেষ হতে চলেছে তৃণমূল!

নরেন্দ্র মোদী পরবর্তী সময়ে এনডিএ জোটের ভবিষ্যৎ এবং বিজেপির নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশলের ওপর ভিত্তি করে বর্তমান জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজস্ব জনপ্রিয়তা ও নিষ্ঠার বিকল্প খুঁজে পাওয়া বিজেপি ও জোটসঙ্গীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবিলায় এবং দলের আধিপত্য বজায় রাখতে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের পরেই সংসদে বিতর্কিত বিলগুলি পাস করানোর ক্ষেত্রে মরিয়া বিজেপি।
তৃণমূল কংগ্রেসকে বিজেপির বর্তমান লক্ষ্যবস্তু করার পেছনে রাজনৈতিক ও আদর্শগত উভয় কারণই রয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক বিজেপির অজানা নয়। তবে বিশ্লেষকদের অভিমত, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের মূল কারণ দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ। সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করে বিজেপি তৃণমূলের শাসনকালকে তীব্র সমালোচনা করছে।
অনেকেই অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলের বিহারের ‘জঙ্গল রাজ’ শব্দবন্ধের সঙ্গে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ পরিস্থিতির তুলনা টানছেন। তৎকালীন বিহারে লালু প্রসাদ যাদব বা রাবড়ি দেবীর জমানা নিয়ে যতোটা বিতর্ক ছিল, বর্তমান তৃণমূল শাসনের নৈতিক অবক্ষয় তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয় বলেই অভিযোগ উঠেছে।
বস্তুত, নব্বইয়ের দশকের শেষে বাজপেয়ী-আডবাণী ঘরানার বিজেপির সরকার গঠনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীতিশ কুমার বা শিবসেনার মতো দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিল। কিন্তু বর্তমান মোদী-শাহের জমানায় সেই সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। শিবসেনার পর এবার তৃণমূলের সাংগঠনিক ভেঙের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। যদিও বিহারে নীতীশ কুমারের দলের ক্ষেত্রে বিজেপি বরাবরই সতর্ক ও ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে।
এর পেছনে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলের পাশাপাশি তৃণমূলের আদর্শিক দুর্বলতাকেও দায়ী করা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে তৃণমূল সরকার উন্নয়নমূলক কাজের চেয়ে হিন্দুত্বের রাজনীতির আদলে প্রকল্প ও মন্দির-কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগী ছিল বলে অভিযোগ। তৃণমূলের বহু নেতাকে প্রকাশ্যে হিন্দুত্ববাদী রীতিনীতি অনুসরণে দেখা গেছে, যা আদতে বিজেপির পথকেই সহজ করে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তৃণমূলের নেতৃস্থানীয়রা দীর্ঘ সময় ধরে আদর্শগতভাবে বিজেপির ‘বি-টিম’ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছে।
বিপরীতে, বিহারের নীতীশ কুমার দীর্ঘদিন বিজেপির সঙ্গে সরকার চালালেও, নিজের আদর্শিক অবস্থান থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। বিজেপি বড় দল হওয়া সত্ত্বেও তিনি পদ্ম শিবিরকে কখনোই রাজ্যের রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে দেননি। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিজেপির আক্রমণাত্মক কৌশল জাতীয় রাজনীতির এক জটিল সন্ধিক্ষণকে স্পষ্ট করে তুলছে।