আরজি করের ধৃত প্রাক্তন অধ্যক্ষের বেআইনি বাড়ি ভাঙার নির্দেশ কলকাতা পুরসভার!

আরজি করের ধৃত প্রাক্তন অধ্যক্ষের বেআইনি বাড়ি ভাঙার নির্দেশ কলকাতা পুরসভার!

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নির্মম ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা তীব্র ক্ষোভের মাঝেই এবার বড়সড় আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়লেন হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডাঃ সন্দীপ ঘোষ। কলকাতার বেলেঘাটায় অবস্থিত তাঁর বাসভবনের বেআইনি অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করেছে কলকাতা পুরসভা (কেএমসি)। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের এই কড়া অবস্থানের ফলে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলা হবে ওই বহুতলের নিয়ম বহির্ভূতভাবে তৈরি কাঠামো।

তদন্তের মাঝেই পুরসভার কড়া অবস্থান

পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, সন্দীপ ঘোষের ওই বাড়ির ছাদে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একটি কংক্রিটের কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। এর পাশাপাশি বহুতলটিতে বেআইনি সিঁড়ি বসানো হয় এবং দ্বিতীয় তলার একটি দরজার জায়গায় নিয়ম ভেঙে ইটের দেওয়াল তুলে দেওয়া হয়েছিল। এই সংক্রান্ত শুনানির সময় সন্দীপ ঘোষের প্রতিনিধিরা কার্যত স্বীকার করে নেন যে, উক্ত নির্মাণগুলো অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যানের অংশ ছিল না। এই স্বীকারোক্তির পরই বেআইনি নির্মাণ অপসারণের এই কঠোর নির্দেশ দেয় কলকাতা পুরসভা। আর্থিক অনিয়ম ও মামলার জটলায় ফেঁসে থাকা প্রাক্তন অধ্যক্ষের জন্য এই সিদ্ধান্ত এক বিরাট ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ ও সিবিআইয়ের নতুন সিট

বেআইনি বাড়ি ভাঙার এই নির্দেশটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার ঠিক আগের দিনই আরজি কর মামলায় এক ঐতিহাসিক মোড় এসেছে। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ ভুক্তভোগী তিলোত্তমার পরিবারের দাবিকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক বলে স্বীকৃতি দিয়ে সিবিআই-এর তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। সিবিআই-এর একজন যুগ্ম পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই নতুন দল আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের তদন্তের কাজ শুরু করতে চলেছে।

প্রভাব ও বিচার পাওয়ার নতুন আশা

এর আগে কলকাতা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের পর মামলার দায়িত্ব নেয় সিবিআই। সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে একমাত্র মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করার পর নিম্ন আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় একাধিক ফাঁকফোকর ও অসংগতির অভিযোগে জনমানসে ক্ষোভ জমা হচ্ছিল। এবার হাইকোর্টের কড়া নজরদারিতে সিবিআই যখন নতুন করে কোমর বেঁধে তদন্তে নামছে, ঠিক তখনই বেআইনি নির্মাণ বিতর্কে চরম প্রশাসনিক ও সামাজিক অস্বস্তিতে পড়লেন ধৃত সন্দীপ ঘোষ। এই জোড়া পদক্ষেপের ফলে থমকে যাওয়া তদন্তে যেমন গতি আসবে, তেমনই দেশবাসী ও নিহতের পরিবার নতুন করে সুষ্ঠু বিচারের আশা দেখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *