জনপ্রিয় এসিতেই লুকিয়ে আছে মৃত্যুর ফাঁদ, স্প্লিট নাকি উইন্ডো কোনটিতে ঝুঁকি বেশি?

জনপ্রিয় এসিতেই লুকিয়ে আছে মৃত্যুর ফাঁদ, স্প্লিট নাকি উইন্ডো কোনটিতে ঝুঁকি বেশি?

তীব্র গরমে একটু স্বস্তির খোঁজে আজকাল মানুষের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে এসি বা এয়ার কন্ডিশনার। তবে অসাবধানতা আর সামান্য ভুলেই এই স্বস্তির যন্ত্রটি হয়ে উঠতে পারে চরম বিপজ্জনক। বর্তমানে বাজারে মূলত উইন্ডো এবং স্প্লিট—এই দুই ধরনের এসি পাওয়া যায়। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও প্রযুক্তিগত দিক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উইন্ডো এসির তুলনায় বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্প্লিট এসিতেই বিস্ফোরণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

স্প্লিট এসিতে কেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি

স্প্লিট এসির মূলত দুটি অংশ থাকে—ইনডোর এবং আউটডোর ইউনিট। এই দুই ইউনিটের সংযোগকারী কপার পাইপে অত্যন্ত উচ্চ চাপে গ্যাস প্রবাহিত হয়। বর্তমানে এসিতে পরিবেশবান্ধব যে গ্যাস ব্যবহার করা হয়, তা অত্যন্ত দাহ্য। অভিজ্ঞ ও দক্ষ টেকনিশিয়ান দ্বারা এসি ইনস্টলেশন না করালে পাইপের জয়েন্টগুলো ঠিকঠাক লক হয় না। ফলে সামান্য লিক থেকেও এই দাহ্য গ্যাস নিখোঁজ বা নির্গত হয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।

তাছাড়া, অনেকেই ঘরের ভেতরের ইউনিটটি পরিষ্কার করলেও বাইরের আউটডোর ইউনিটটির দিকে নজর দেন না। দীর্ঘদিন ধুলো-ময়লা জমে আউটডোর ইউনিট জ্যাম হয়ে গেলে এর ভেতরের কম্প্রেসরটি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এই অতিরিক্ত তাপ ও উচ্চ চাপের কারণে স্প্লিট এসিতে বিস্ফোরণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে।

তুলনামূলক নিরাপদ উইন্ডো এসি

উইন্ডো এসির সমস্ত মেকানিজম বা যন্ত্রাংশ একটি মাত্র সিলড বক্সের ভেতরে ফ্যাক্টরি থেকেই নিখুঁতভাবে ফিট হয়ে আসে। এতে বাইরে থেকে বাড়তি পাইপ বা জয়েন্ট জোড়া দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না বলে গ্যাস লিকের আশঙ্কা থাকে না বললেই চলে। এছাড়া, উইন্ডো এসির অর্ধেক অংশ ঘরের বাইরে ঝুলে থাকে। ফলে কোনো কারণে সেখানে গ্যাস লিক বা শর্ট সার্কিট হলেও ক্ষতিকারক গ্যাস কিংবা আগুন ঘরের বাইরেই সীমাবদ্ধ থাকে। এতে ঘরের ভেতরের মানুষের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

দুর্ঘটনা এড়াতে সম্ভাব্য করণীয়

এসি বিস্ফোরণের মূল কারণ মূলত সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার। এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে এবং পরিবারকে নিরাপদ রাখতে কিছু জরুরি নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক। বছরে অন্তত দুই বার দক্ষ ও সার্টিফাইড টেকনিশিয়ানকে দিয়ে এসির গ্যাস লিক ও কুলিং চেক করাসহ সম্পূর্ণ সার্ভিসিং করানো উচিত। একটানা দীর্ঘ সময় এসি চালানো বন্ধ করতে হবে এবং ঘরের ভেতরের অংশের পাশাপাশি আউটডোর ইউনিটের চারপাশও পরিষ্কার রাখতে হবে। সর্বোপরি, এসির সংযোগের জন্য সঠিক মানের তার ও পাওয়ার সকেট ব্যবহারের পাশাপাশি সার্কিট ব্রেকার ও স্ট্যাবিলাইজার নিশ্চিত করা গেলে বিস্ফোরণের ঝুঁকি ও বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *