বারাসাত আদালতে তৃণমূল নেতা অরুণ ভৌমিককে দেখে ‘চোর চোর’ স্লোগান, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সাধারণ মানুষ

কলকাতা পুরসভার অভ্যন্তরীণ সংকট, জেলা স্তরে নেতাদের ইস্তফা এবং বাদুড়িয়ার প্রাক্তন বিধায়কের বিস্ফোরক মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। জমি-বাড়ি দখল ও মারধরের মামলায় অভিযুক্ত বারাসাত পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর তথা প্রভাবশালী নেতা অরুণ ভৌমিককে শুক্রবার বারাসাত আদালতে তোলার সময় জনরোষের মুখে পড়তে হলো। আদালত চত্বরে উপস্থিত প্রায় শ’খানেক সাধারণ মানুষ তাঁকে দেখা মাত্রই সমস্বরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, উত্তেজিত জনতা ওই তৃণমূল নেতাকে তাঁদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবিও তুলতে থাকেন।

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবং বর্তমান শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জমানায় যখন পুলিশ ও প্রশাসন পুরোনো আমলের জমি দখল, সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে, ঠিক তখনই বারাসাতের এই ঘটনা শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের ওপর সাধারণ মানুষের জমে থাকা পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল।

জমি-বাড়ি কেড়ে নেওয়া ও লাথি মারার গুরুতর অভিযোগ

এদিন আদালত চত্বরে অরুণ ভৌমিকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার হতে দেখা যায় এক স্থানীয় মহিলাকে। সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ওই মহিলা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এই তৃণমূল নেতা ও তাঁর অনুগামীরা তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে লাগাতার ভয় দেখিয়ে আসছিলেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাঁদের জমি ও বাড়ি জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

মহিলার আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, বঞ্চনার প্রতিবাদ করতে গেলে ওই তৃণমূল নেতা তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন এবং সরাসরি লাথি পর্যন্ত মারেন। এতদিন পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার না মেলায়, আজ ওই নেতাকে আদালতের কাঠগড়ায় দেখে তিনি নিজের ক্ষোভ ধরে রাখতে পারেননি।

আদালত চত্বরে ধুন্ধুমার, অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির

পুলিশ যখন কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে অরুণ ভৌমিককে প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে আদালতের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছিল, তখনই চারপাশ থেকে ‘চোর চোর’ স্লোগানে আদালত চত্বর কেঁপে ওঠে। সাধারণ মানুষের এই আকস্মিক ও মারমুখী মেজাজ দেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বিগত বছরগুলোতে বারাসাত ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর যে অত্যাচার ও জমি দখলের রাজনীতি চলেছে, এখন সময় এসেছে তার হিসাব নেওয়ার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন ফলতায় অভিষেকের ঘনিষ্ঠ নেতার আত্মসমর্পণ এবং বাদুড়িয়ায় কাজী আব্দুর রহিমের মতো প্রাক্তন বিধায়কেরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন, ঠিক অন্যদিকে বারাসাতের এই জনরোষ প্রমাণ করছে যে তৃণমূলের নীচুতলার নেতাদের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের ভয় পুরোপুরি কেটে গেছে। নতুন সরকারের আইন কঠোর করার বার্তার পর, এতদিন কোণঠাসা হয়ে থাকা মানুষ এখন সরাসরি রাজপথে ও আদালতে এসে নিজেদের অধিকারের দাবিতে সরব হচ্ছেন, যা তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে আরও বড় সংকটের মুখে ঠেলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *