দুই সন্তানের মাকে নিয়ে ওয়ো হোটেলে প্রেমিক, ১৭ ঘণ্টা পর দরজা খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের!

দুই সন্তানের মাকে নিয়ে ওয়ো হোটেলে প্রেমিক, ১৭ ঘণ্টা দরজা না খোলায় উদ্ধার ঝুলন্ত ও শায়িত দেহ
দেশের রাজধানী দিল্লির উত্তর-পূর্ব এলাকার জাফরাবাদ থানা এলাকায় একটি ওয়ো (OYO) হোটেলে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে। মৌজপুর মেট্রো স্টেশনের কাছে অবস্থিত ওই হোটেলে এক যুগল ঘর ভাড়া নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও কোনো সাড়া শব্দ না মেলায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই পুলিশ ও হোটেল কর্মীদের সামনে আসে এক হাড়হিম করা দৃশ্য। ভেতরে বিছানার ওপর প্রেমিকার মৃতদেহ এবং ফ্যানের সাথে প্রেমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশের তদন্ত
পুলিশ ও হোটেল রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সী সোহরাব এবং ২৭ বছরের আয়েশা দুপুর ১টা বেজে ২ মিনিটে ওই হোটেলে চেক-ইন করেছিলেন। আয়েশা বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর দুটি সন্তানও রয়েছে। তাঁরা দুজনে প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। চেক-ইন করার পর দিনভর ঘরের দরজা না খোলায় এবং রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত একাধিকবার ডাকার পরেও কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় হোটেল কর্মীরা জাফরাবাদ থানায় খবর দেন। রাত আটটা নাগাদ পুলিশ এসে মাস্টার কি (Master Key) দিয়ে ঘরের দরজা খুললে দেখা যায়, সোহরাবের দেহ ফ্যানে ঝুলছে এবং আয়েশার দেহ বিছানায় নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আয়েশার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
সুইসাইড নোট ও পারিবারিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হিন্দি ভাষায় লেখা আধ পাতার একটি সুইসাইড নোট বা আত্মহত্যার চিঠি উদ্ধার করেছে। চিঠিতে লেখা ছিল যে, তাঁরা একে অপরকে ভালোবাসতেন এবং নিজেদের ইচ্ছায় একসাথে জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে আয়েশার স্বামী মহম্মদ গুলফাম থানায় পৌঁছান। তিনি পুলিশকে জানান যে তিনি সোহরাব নামের ওই যুবককে চেনেন না। আয়েশা উত্তর প্রদেশের লোনির বাসিন্দা ছিলেন এবং তাঁদের দুটি ছোট ছেলে রয়েছে। অন্যদিকে মৃত যুবক সোহরাব উত্তর প্রদেশের মীরাটের বাসিন্দা ছিলেন বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
তদন্তের অগ্রগতি
২০২৩ সালের এই দুঃখজনক ঘটনাটি পরকীয়া সম্পর্ক, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং অবসাদের এক করুণ পরিণতি হিসেবে সামনে এসেছিল। পুলিশ দুটি মৃতদেহই ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) জন্য পাঠিয়েছিল এবং ফরেনসিক ও ক্রাইম টিম ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পুলিশ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
এক ঝলকে
- দিল্লির জাফরাবাদের একটি ওয়ো হোটেলে দুই সন্তানের মা আয়েশা এবং তাঁর প্রেমিক সোহরাবের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
- ১৭ ঘণ্টা ঘরের দরজা বন্ধ থাকার পর পুলিশ দরজা খুলে সোহরাবের ঝুলন্ত দেহ এবং বিছানায় আয়েশার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে।
- ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে তাঁরা যৌথভাবে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
- আয়েশার স্বামী এই সম্পর্কের বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ছিলেন; পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন করেছে।