২০৩০ পর্যন্ত বেঁচে থাকলেই আপনি পাবেন অমরত্ব! ১৪৭টি সফল ভবিষ্যৎবাণী করা বিজ্ঞানীর বিস্ফোরক দাবি

২০৩০ পর্যন্ত বেঁচে থাকলেই আপনি পাবেন অমরত্ব! ১৪৭টি সফল ভবিষ্যৎবাণী করা বিজ্ঞানীর বিস্ফোরক দাবি

২০৩০ সাল নাগাদ অমরত্ব লাভ করতে পারে মানুষ! ১৪৭টি নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী করা গুগল বিজ্ঞানীর মন্তব্যে শোরগোল

অমরত্ব লাভ করার বা চিরকাল বেঁচে থাকার মানুষের আদিম যে আকাঙ্ক্ষা, তা এবার শুধু কল্পবিজ্ঞান বা সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাস্তব রূপ নিতে চলেছে। বিশ্বখ্যাত ফিউচারিস্ট (ভবিষ্যবক্তা) এবং গুগলের প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার রে কুর্জউইল (Ray Kurzweil) এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানিয়েছেন, কোনো মানুষ যদি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারেন, তবে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে তিনি চিরতরে অমরত্ব লাভ করার সুযোগ পাবেন। তাঁর মতে, জেনেটিক্স, রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অভাবনীয় মেলবন্ধনে মানুষ খুব শীঘ্রই মৃত্যুকে জয় করতে চলেছে।

ন্যানোবোটস (Nanobots): বার্ধক্য রুখবে রক্তের অণুবীক্ষণিক রোবট

কুর্জউইলের দাবি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ন্যানোটেকনোলজি বা অণুপ্রযুক্তি এতটাই উন্নত স্তরে পৌঁছে যাবে যে বিজ্ঞানীরা ‘ন্যানোবোটস’ নামের অতি ক্ষুদ্র রোবট তৈরি করতে সক্ষম হবেন। এই অণুবীক্ষণিক রোবটগুলোকে মানুষের রক্তনালীতে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হবে। এগুলো শরীরের ভেতর সার্বক্ষণিক প্রবাহিত হয়ে প্রতিটি কোষের ওপর নজর রাখবে। কোনো কোষ বা কলা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সাথে সাথে মেরামত করবে এবং বার্ধক্যের জন্য দায়ী কোষগুলোকে পুনরায় তরুণ ও সতেজ কোষে রূপান্তরিত করবে। এর ফলে মানুষের শরীরে কোনো রোগবালাই বাসা বাঁধতে পারবে না এবং বার্ধক্যকে সম্পূর্ণ আটকে দেওয়া সম্ভব হবে।

রে কুর্জউইলের ভবিষ্যদ্বাণীর নির্ভরযোগ্যতা কতটুকু?

এই কথাগুলো সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো অবাস্তব মনে হলেও, কুর্জউইলের অতীত ট্র্যাক রেকর্ড কিন্তু অন্য কথা বলে। তাঁর করা মোট ১৪৭টি ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশই অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। ইন্টারনেট বিপ্লব, স্মার্টফোনের বহুল ব্যবহার কিংবা আজকের যুগে এআই (AI)-এর আধিপত্যের কথা তিনি বহু বছর আগেই ঘোষণা করেছিলেন। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মার্কিন সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি’ বিজয়ী এই বিজ্ঞানীর কথাকে তাই হালকাভাবে নিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

২০২৯-এ এআই এবং ২০৪৫-এ ‘সিঙ্গুলারিটি’

কুর্জউইলের মতে, ২০২৯ সালের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বুদ্ধিমত্তার সমকক্ষ হয়ে উঠবে। তখন মানুষের মস্তিষ্ক সরাসরি ক্লাউড কম্পিউটিং বা এআই-এর সাথে যুক্ত করা সম্ভব হবে, যা মানুষের চিন্তাভাবনা ও স্মরণশক্তিকে কোটি গুণ বাড়িয়ে দেবে। এরপর ২০৪৫ সালের মধ্যে পৃথিবী প্রবেশ করবে ‘সিঙ্গুলারিটি’ (Singularity) বা অতি-বুদ্ধিমত্তার যুগে। তখন মানুষ নিজের সমস্ত স্মৃতি ও চেতনাকে (Consciousness) ডিজিটাল চিপে আপলোড করতে পারবে। ফলে জৈবিক শরীর ধ্বংস হয়ে গেলেও মানুষ নিজের ডিজিটাল সত্তার মাধ্যমে মহাবিশ্বে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

এক ঝলকে

  • গুগলের প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার ও ফিউচারিস্ট রে কুর্জউইলের দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রযুক্তির হাত ধরে মানুষ অমরত্ব অর্জন করবে।
  • রক্তের ন্যানোবোটস বা ক্ষুদ্র রোবট শরীরের রোগাক্রান্ত ও বৃদ্ধ কোষ মেরামত করে মানুষকে চিরযৌবনা করে রাখবে।
  • কুর্জউইলের করা ১৪৭টি ভবিষ্যদ্বাণীর ৮৬% সফল হয়েছে, যার মধ্যে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট বিপ্লবের কথা আগেই বলা ছিল।
  • ২০৪৫ সালের মধ্যে ‘সিঙ্গুলারিটি’ যুগের মাধ্যমে মানুষ নিজের মেধা ও চেতনাকে ডিজিটাল চিপে রূপান্তর করে চিরকাল বেঁচে থাকার ক্ষমতা পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *