গরিবের স্বস্তিতে চিকিৎসকদের মহৎ উদ্যোগ, চন্দননগরে নয়া নজির বিধায়কের

চন্দননগর হাসপাতালের বেহাল স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, হাসপাতালের বাইরের দেওয়ালে রঙের প্রলেপ পড়লেও ভেতরের চিকিৎসা পরিষেবার কোনো গুণগত মানোন্নয়ন হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ও দুস্থ মানুষের একমাত্র ভরসা বেসরকারি ক্লিনিকগুলো। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকদের চড়া ভিজিট মেটানো বহু গরিব মানুষের পক্ষেই আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। চন্দননগরের এই দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সংকট কাটাতে এবার এক অভিনব ও মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হলো স্থানীয় স্তরে।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর চন্দননগরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার খোলনলচে বদলাতে কোমর বেঁধে নেমেছেন স্থানীয় বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ। তাঁরই বিশেষ উদ্যোগে এবার সপ্তাহে একদিন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগী দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এলাকার নামকরা চিকিৎসকেরা। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫ জন চিকিৎসক এই পরিষেবা দেওয়ার জন্য অঙ্গীকার করেছেন। কোনো রাজনৈতিক ভেদাভেদ না রেখে, দলমত নির্বিশেষে চন্দননগরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরাতে চিকিৎসকেরা বিধায়কের এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন।
বিনামূল্যে চিকিৎসার রূপরেখা ও কার্যকারিতা
গত শুক্রবার চন্দননগরের বিশিষ্ট চিকিৎসকদের সাথে বিধায়কের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, আগামী সপ্তাহ থেকেই এই পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা নিজেদের নির্ধারিত চেম্বারেই সপ্তাহে একদিন কয়েক ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীদের পরামর্শ ও চিকিৎসা দেবেন। খুব দ্রুতই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে কোন কোন চিকিৎসক, ঠিক কোন দিন এবং কীভাবে এই পরিষেবা প্রদান করবেন।
সামাজিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই উদ্যোগের ফলে চন্দননগরের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চড়া ভিজিটের হাত থেকে রেহাই পাবেন, যা তাদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ অনেকটাই লাঘব করবে। একইসাথে সরকারি হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মানবিক পদক্ষেপ চন্দননগরের স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি সামাজিক নৈতিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করবে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এটি কেবল শুরু; চন্দননগরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির জন্য আগামীদিনে তাঁরা আরও বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করতে চলেছেন।