শূন্য খাতা জমা দিয়েও প্রথম, বাংলায় বিডিও নিয়োগ দুর্নীতির জট খুলতেই শোরগোল

পশ্চিমবঙ্গে এবার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও নিয়োগে বড়সড় দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ সামনে এসেছে। ১৯৫২ সালে রাজ্যে বিডিও পদের সূচনা হওয়ার পর থেকে গ্রামীণ প্রশাসনের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই পদটিকে। তবে সাম্প্রতিক তদন্তে এবং স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবিতে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন বিডিও ভুয়ো উপায়ে চাকরি পেয়েছেন। এই তালিকায় অন্যতম শীর্ষ নাম হিসেবে উঠে এসেছে প্রশান্ত বর্মণ ও শানু বক্সির মতো আধিকারিকদের নাম, যা প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
সাদা খাতা ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের নেপথ্যে অনিয়ম
২০১৮ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রথম স্থানাধিকারী প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, তিনি পরীক্ষায় কার্যত সাদা খাতা জমা দিয়েছিলেন। পিএসসির স্কোরশিটে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর প্রথমে শূন্য দেখা গেলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে তা বদলে ১৬২ হয়ে যায়। এই গরমিল নিয়ে পিএসসি স্বয়ং প্রশান্তকে চিঠি পাঠায় এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এদিকে, সল্টলেকের এক স্বর্ণব্যবসায়ী খুনের মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকে অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মণ বর্তমানে গা ঢাকা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বর্তমান বিডিও শানু বক্সির বিরুদ্ধেও ‘সাদা খাতা’ জমা দিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস সংবাদমাধ্যমের সামনে শানু বক্সির সাথে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের একটি চ্যাট হিস্ট্রি প্রকাশ করেছেন। যদিও শানু বক্সি এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর কারসাজি বলে দাবি করেছেন এবং দোষ প্রমাণিত হলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
প্রশাসনিক স্তরে বিপর্যয়ের আশঙ্কা
একটি ব্লকের সার্বিক উন্নয়নের মূল দায়িত্ব থাকে বিডিও-র কাঁধে। পদাধিকার বলে তিনি পঞ্চায়েত সমিতির কার্যনির্বাহী আধিকারিক এবং ভূমি সংস্কার, মৎস্য, নারী ও শিশু কল্যাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের নোডাল অফিসার হিসেবে কাজ করেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবে ও অযোগ্য উপায়ে এই সংবেদনশীল পদে নিয়োগের কারণে গ্রামীণ স্তরের সরকারি প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। মেধার অবমূল্যায়ন এবং এই প্রশাসনিক দলতন্ত্রের বিস্তার আগামী দিনে গ্রামীণ শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পিএসসির নথির ভিত্তিতে ভুয়ো বিডিওদের চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে, যার ফলে আগামী দিনে আরও বড় নাম সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।