বাইরে বেরোলেই গলদঘর্ম! প্যাচপ্যাচে গরমের মাঝেই ধেয়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি, কী জানাল আবহাওয়া দপ্তর?

রাজ্যে অঞ্চল ভেদে শুষ্ক কিংবা ভ্যাপসা গরম আগামী ৪-৫ দিন, চলবে বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টিও
ভারতের উত্তর-পশ্চিম, মধ্য এবং পূর্বের একটা বড় অংশ জুড়ে বর্তমানে তীব্র শুষ্ক গরম হাওয়া ও তাপপ্রবাহের (Heat Wave) দাপট চলছে। দেশের বেশ কিছু জায়গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪৪ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, যার মধ্যে উত্তরপ্রদেশের বান্দায় পারদ সর্বোচ্চ ৪৭.৬ ডিগ্রিতে পৌঁছে গেছে। তবে এই তীব্র তাপপ্রবাহের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার এক মিশ্র রূপ দেখা যাচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে প্রচণ্ড অস্বস্তিকর গরম থাকলেও এখনই কোনো তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি নেই। বঙ্গোপসাগর থেকে অবিরাম জলীয় বাষ্পপূর্ণ দখিনা বাতাস প্রবেশ করার কারণেই তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়তে পারছে না।
পশ্চিমাঞ্চলে শুষ্ক গরম, উপকূলে ভ্যাপসা অস্বস্তি
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ড ও বিহারে তীব্র তাপপ্রবাহ চলায় সেই রাজ্যগুলোর সংলগ্ন পুরুলিয়া এবং পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে এবং তাপপ্রবাহ না থাকলেও মূলত ‘শুকনো গরম’ অনুভূত হচ্ছে।
অন্য দিকে, দক্ষিণবঙ্গের উপকূল ও তার সংলগ্ন জেলাগুলোতে তাপমাত্রা কিছুটা কম হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের মাত্রা অত্যাধিক বেশি। ফলে এই অঞ্চলের মানুষকে দিনভর চরম ভ্যাপসা ও অস্বস্তিকর গরমে জেরবার হতে হচ্ছে।
কলকাতার আবহাওয়া ও রাতের গরমের কারণ
কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের আশেপাশেই (৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রয়েছে। কিন্তু বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার (Relative Humidity) সর্বনিম্ন মাত্রা ৬৬ শতাংশ থাকায় গলদঘর্ম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকার কারণে রাতে ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকিরণ বা রেডিয়েশন বাধা পাচ্ছে। এর ফলে রাতের দিকেও তাপমাত্রা কমছে না। কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ ডিগ্রি বেড়ে ২৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেছে, যার কারণে রাতেও স্বস্তি মিলছে না।
আগামী ৪-৫ দিনের পূর্বাভাস ও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে গরমের এই একই চরিত্র আগামী চার-পাঁচদিন বজায় থাকবে, তারপর তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে এই অস্বস্তির মাঝেই স্বস্তির বার্তা দিয়েছে হাওয়া অফিস। বায়ুমণ্ডলে ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার উপস্থিতির কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে, যার ফলে দুই বঙ্গেই বজ্রগর্ভ মেঘ (Thundercloud) তৈরি হচ্ছে।
- দক্ষিণবঙ্গ: জেলাগুলোতে বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানেই কালবৈশাখী বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হবে, সেখানেই সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমবে ও স্বস্তি মিলবে। আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই বীরভূম, দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় ঝড়-বৃষ্টির জন্য ‘কমলা সতর্কতা’ (Orange Alert) জারি করেছে।
- উত্তরবঙ্গ: উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও তার সংলগ্ন সমতলের জেলাগুলোতে বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার বেশি হওয়ায় সেখানে বৃষ্টির প্রবণতা দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় অনেকটাই বেশি থাকবে।
এক ঝলকে
- উত্তর ও মধ্য ভারতে তীব্র তাপপ্রবাহ চললেও জলীয় বাষ্পের কারণে দক্ষিণবঙ্গে এখনই তাপপ্রবাহের কোনো সম্ভাবনা নেই।
- পুরুলিয়া-সহ পশ্চিমাঞ্চলে পারদ ৪০ ডিগ্রির আশেপাশে থাকায় শুষ্ক গরম এবং কলকাতা ও উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ভ্যাপসা গরমের দাপট চলবে।
- বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় রাতে তাপ বিকিরণ বাধা পাচ্ছে, ফলে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি বেশি।
- আগামী ৪-৫ দিন এই পরিস্থিতি চলার পাশাপাশি দুই বঙ্গেই বিক্ষিপ্তভাবে কালবৈশাখী ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।