ড্রোনে নজরদারি, দুর্ভেদ্য সীমান্ত! অনুপ্রবেশ রুখতে মোদী সরকারের মেগা ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প

ড্রোনে নজরদারি, দুর্ভেদ্য সীমান্ত! অনুপ্রবেশ রুখতে মোদী সরকারের মেগা ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প

সীমান্ত সুরক্ষায় কেন্দ্রের ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প, মোদী সরকারের নতুন পদক্ষেপে বসছে ড্রোন ও রেডার

ভারত-পাকিস্তান এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৬,০০০ কিলোমিটার এলাকাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য করতে এক যুগান্তকারী ‘স্মার্ট বর্ডার’ (Smart Border) প্রকল্প নিয়ে আসছে মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই এই মেগা প্রকল্পের কাজ মাঠপর্যায়ে শুরু হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা, চোরাচালান রোখা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন রুখতেই কেন্দ্র এই আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক সুরক্ষাকবচ তৈরি করছে।

ড্রোন ও রেডারের নিশ্ছিদ্র নজরদারি

প্রথাগত কাঁটাতারের বেড়াকে আরও শক্তিশালী করতে এই প্রকল্পে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানো হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সীমান্তজুড়ে ২৪ ঘণ্টা অতন্দ্র নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হবে ড্রোনের বিশেষ স্কোয়াড, হাই-টেক রেডার সিস্টেম এবং থার্মাল ইমেজিং ও নাইট-ভিশন যুক্ত বিশেষ নজরদারি ক্যামেরা। স্থলভূমির পাশাপাশি নদীপথ এবং আকাশপথেও যাতে কোনোভাবেই অনুপ্রবেশ না ঘটে, তার জন্য তৈরি করা হচ্ছে একটি সমন্বিত নিশ্ছিদ্র সার্ভেইল্যান্স গ্রিড। এর মাধ্যমে সীমান্তে যেকোনো গতিবিধি তৎক্ষণাৎ ধরা পড়বে কন্ট্রোল রুমে।

বাংলাদেশ সীমান্তের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করার তাগিদ

প্রযুক্তিগত নজরদারির পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্তে ভৌগোলিক কারণে যে সমস্ত অংশে এখনো কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি, সেই বকেয়া কাজগুলি দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নদীমাতৃক বা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ‘গ্যাপ’ বা ফাঁকগুলি পূরণে এই স্মার্ট বর্ডার প্রযুক্তি মূল ভূমিকা নেবে। কেন্দ্রের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত দিয়ে চলা সমস্ত রকম বেআইনি কার্যকলাপ সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এক ঝলকে

  • ভারত-পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৬,০০০ কিমি এলাকা সুরক্ষিত করতে মোদী সরকার নিয়ে আসছে ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প।
  • কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে এই আধুনিক প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
  • অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাসের পরিবর্তন রুখতে ড্রোন, রেডার, অত্যাধুনিক নজরদারি ক্যামেরা দিয়ে আকাশ ও নদীপথেও চলবে কড়া পাহারা।
  • বাংলাদেশ সীমান্তের ফাঁকা অংশগুলিতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *