৩০ মে থেকে রাজ্যে সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের টিকাকরণ, উত্তরবঙ্গে এইমস গড়ার মাস্টারপ্ল্যান মুখ্যমন্ত্রীর

৩০ মে থেকে রাজ্যে সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের টিকাকরণ, উত্তরবঙ্গে এইমস গড়ার মাস্টারপ্ল্যান মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড়সড় বদল আনতে একগুচ্ছ যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৩০ মে থেকে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের টিকাকরণ কর্মসূচি। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা এইমস (AIIMS) প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে তিনি জানান। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের এই নতুন রোডম্যাপ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত বাংলার মানুষকে দ্রুত মূল স্রোতে ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া।

ক্যান্সার প্রতিরোধে টিকাকরণ ও উত্তরবঙ্গের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশজুড়ে যে সার্ভিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধী টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, এবার তা বাংলায় কার্যকর হতে চলেছে। এই অভিযানের জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের জন্য সাত লক্ষেরও বেশি ভ্যাকসিনের ডোজ বরাদ্দ করতে চেয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সি কিশোরীদের এই জীবনদায়ী প্রতিষেধক দেওয়া হবে। আগামী ৩০ মে বিধাননগর সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের চিকিৎসাব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দিতে সেখানে একটি এইমস গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই প্রস্তাব দিল্লির দরবারে পাঠানো হবে। উত্তরবঙ্গের এইমস ছাড়াও আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান— এই চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরির প্রস্তাবও কেন্দ্রের কাছে পাঠাচ্ছে রাজ্য সরকার।

আয়ুষ্মান ভারত ও স্বাস্থ্য খাতে বিশাল আর্থিক বরাদ্দ

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও মজবুত করতে আগামী জুলাই মাস থেকে বাংলায় চালু হতে চলেছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ড বিলির প্রক্রিয়া। বর্তমানে রাজ্যের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ছয় কোটিরও বেশি মানুষকে ধাপে ধাপে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই লক্ষ্যে জুনের প্রথম সপ্তাহেই দিল্লিতে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় সহযোগিতার হাত ধরে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় বাংলার জন্য ২,১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম কিস্তির ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। এছাড়া আয়ুষ্মান ভারতের জন্য অতিরিক্ত ৯৭৬ কোটি টাকা অনুমোদিত হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল পাচ্ছে রাজ্য। সাধারণ মানুষের ওষুধের খরচ কমাতে রাজ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র’-এর সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৭০ টি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাস্থ্য দপ্তরের সমস্ত শূন্যপদ পূরণ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *