আরজি করে ফের ঝড়! ‘দাদাগিরি’ বিতর্কের সেই চিকিৎসক অভীককে ঘিরে নতুন নির্দেশে চাঞ্চল্য

আরজি করে ফের ঝড়! ‘দাদাগিরি’ বিতর্কের সেই চিকিৎসক অভীককে ঘিরে নতুন নির্দেশে চাঞ্চল্য

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার জেরে রাজ্যজুড়ে যে তোলপাড় শুরু হয়েছিল, তার জল এবার গড়াল আরও দূর। সরকারি হাসপাতালে ‘দাদাগিরি’ ও থ্রেট কালচার চালানোর অভিযোগে নাম জড়ানো বিতর্কিত চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্য ভবন। শনিবার স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে অভীকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে স্নাতকোত্তর স্তরে (পিজিটি) ভর্তি হয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি পৃথক অনুসন্ধান কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রেডিয়োডায়াগনসিস বিভাগের প্রাক্তন আরএমও অভীক দে পরবর্তীতে এসএসকেএম হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিভাগে প্রথম বর্ষের স্নাতকোত্তর ট্রেনি হিসেবে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর কাণ্ডের পর হাসপাতালের সেমিনার রুমে বহিরাগত হিসেবে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। আরজি করের সঙ্গে যুক্ত না থেকেও ক্রাইম সিনের আশেপাশে তাঁর উপস্থিতি চিকিৎসকদের একাংশের মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর পরেই সরকারি হাসপাতালগুলোতে ক্ষমতা প্রদর্শন ও জুনিয়রদের ওপর ‘দাদাগিরি’ করার একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করা হয়েছিল। এবার তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি বিভাগীয় স্তরে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হলো।

ভর্তির অসঙ্গতি ও অতীত বিতর্ক খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য দফতর

তদন্তের মূল লক্ষ্য কেবল আরজি কর কাণ্ডে তাঁর ভূমিকা নয়, বরং তাঁর কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা নিয়েও। অভীক দে কীভাবে এসএসকেএম হাসপাতালে পিজিটি-তে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন এবং সেখানে কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য দফতর। এর আগে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল তাঁর বিরুদ্ধে সাময়িক পদক্ষেপ করলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তনের পর এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ নতুন করে গতি পেল। পূর্ববর্তী নির্দেশিকা অনুযায়ী, অভীকের এসএসকেএম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি, অপারেশন থিয়েটার, বহির্বিভাগ এবং হোস্টেলে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনও জারি রয়েছে।

প্রভাব এবং বর্তমান পরিস্থিতি

স্বাস্থ্য ভবনের এই কড়া সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে চিকিৎসক সংগঠনগুলো। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম’-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ ইতিবাচক হলেও তা যেন কেবল একটি নির্দিষ্ট নামের ওপর সীমাবদ্ধ না থাকে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং সরকারি হাসপাতালে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও সমান ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে তারা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, স্বাস্থ্য দফতরের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি হাসপাতালগুলোতে সিন্ডিকেট বা থ্রেট কালচারের সঙ্গে যুক্ত থাকা অন্য প্রভাবশালী চিকিৎসক ও পড়ুয়াদের ওপর বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হবে, যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে সাহায্য করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *