গ্রিন কার্ড পেতে এবার ছাড়তে হবে আমেরিকা, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে অভিবাসীদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল

বিদেশি নাগরিকদের আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা ‘গ্রিন কার্ড’ পাওয়ার পথ আরও কঠিন ও জটিল হয়ে উঠল। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতরের অধীনস্থ নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ সম্প্রতি একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে আমেরিকায় অবস্থান করে আর গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে না। আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিককে প্রথমে আমেরিকা ছাড়তে হবে এবং নিজের দেশে ফিরে গিয়ে কনসুলার পরিষেবার মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
আইনের ফাঁকফোকর বন্ধের মরিয়া চেষ্টা
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা এবং আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন পরিষেবা বিভাগের মুখপাত্র জ়াচ কাহলার জানিয়েছেন, আমেরিকায় থেকে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পর অনেকের আবেদন বাতিল হলে তারা গা ঢাকা দিয়ে অবৈধভাবে বসবাস শুরু করেন। প্রশাসনকে তখন তাদের খুঁজে বের করতে সমস্যায় পড়তে হয়। নতুন এই নিয়মের ফলে অবৈধবাসীদের খুঁজে বের করার ঝক্কি অনেকটাই কমবে। তবে নির্দেশিকায় কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রের কথা বলা হলেও, সেগুলো স্পষ্ট করা হয়নি। শুধু জানানো হয়েছে, যারা আমেরিকার আর্থিক সুবিধা বা অন্য কোনো স্বার্থে কাজ করছেন, তারা কিছুটা ছাড় পেতে পারেন।
লাখ লাখ অভিবাসীর ভবিষ্যৎ সংকটে
এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে চলেছে আমেরিকায় বসবাসরত বিদেশি শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং মার্কিন নাগরিকদের বিদেশি জীবনসঙ্গীদের ওপর। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ১৪ লক্ষ বিদেশিকে গ্রিন কার্ড দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৮ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ আগে থেকেই আমেরিকায় অবস্থান করছিলেন এবং ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অফ স্টেটাস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সুবিধা পেয়েছিলেন। নতুন নিয়মের কারণে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দীর্ঘ মাস বা বছর লেগে যেতে পারে, যার ফলে বহু পরিবারকে একে অপরের থেকে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। আকস্মিক এই পরিবর্তনের কারণে বৈধ অভিবাসীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।