অ্যাম্বুল্যান্সে রোগী নয়, পাচার হচ্ছিল চুরির ছাগল! হুগলিতে গ্রেফতার চালকসহ তিনমূর্তি

জনসাধারণের জরুরি স্বাস্থ্যপরিষেবায় ব্যবহারের জন্য জনপ্রতিনিধির তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছিল অ্যাম্বুল্যান্স। কিন্তু সেই জীবনদায়ী গাড়িটিই শেষ পর্যন্ত ব্যবহৃত হলো চুরির ছাগল পাচারের কাজে। হুগলির দাদপুর থানা এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্সের ভেতর থেকে তিনটি চুরির ছাগল উদ্ধারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরের এই নজিরবিহীন ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
তৎপর ওসির অভিযানে পর্দাফাঁস
শনিবার ভোরে দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সারখোলা গ্রামের এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে ছাগল চুরি করে পালাচ্ছিল একদল দুষ্কৃতী। ঠিক সেই সময়েই ওই এলাকায় দাদপুর থানার ওসি সন্তোষ তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল নৈশকালীন টহল ও অভিযান চালাচ্ছিল। অন্ধকারে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেটিকে আটকায় পুলিশ। তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তদন্তকারীদের। গাড়ির ভেতরে কোনো রোগী ছিলেন না, তার বদলে ছোপ ছোপ অন্ধকারে লুকিয়ে রাখা ছিল তিনটি ছাগল।
ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুল্যান্সের চালক আহমেদ আলি সরকার, দীপঙ্কর রায় এবং রজত ক্ষেত্রফলকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। কিন্তু গাড়িতে ছাগল বহনের স্বপক্ষে কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অ্যাম্বুল্যান্সটি ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্রের বিধানসভা উন্নয়ন তহবিল থেকে দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতকে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শুক্রবার রাত থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সটি নিয়ে গ্রামের বিভিন্ন রাস্তায় রেইকি করছিল এই তিন দুষ্কৃতী। মূলত গবাদি পশু চুরির উদ্দেশ্য নিয়েই তারা ঘুরছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত বেশ কিছু দিন ধরেই এলাকার বিভিন্ন গোয়ালঘর থেকে ছাগল চুরির ঘটনা ঘটছিল। সামনেই ইদুজ্জোহা বা ইদ থাকায় বাজারে বর্তমানে ছাগলের ভালো দাম মিলছে। সেই চড়া দামের সুযোগ নিয়ে চুরির ছাগল হাটে চড়া দামে বিক্রি করে মোটা টাকা আয়ের ছক কষেছিল এই চক্রটি।
জরুরি পরিষেবার গাড়িকে চুরির কাজে ব্যবহার করার এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সরকারি বা পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণে থাকা গাড়ির অপব্যবহার রুখতে আগামী দিনে আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল। চুরির এই অভিনব পন্থার পেছনে কোনো বড়সড় আন্তঃজেলা চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দাদপুর থানার পুলিশ।