শান্তিনিকেতনে প্রবীণদের আশ্রয় গায়েব, সরকারি বৃদ্ধাশ্রম এখন সুইমিং পুল যুক্ত বিলাসবহুল রিসর্ট!

শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরিপল্লীর বল্লভপুরডাঙায় এক চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে অসহায় প্রবীণদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হওয়ার কথা ছিল, সেখানে আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বিশালাকার গেট, ঘাসের লন, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ভবন ও সুইমিং পুল যুক্ত এক বিলাসবহুল বাণিজ্যিক রিসর্ট। সরকারি খাস জমিতে জেলা পরিষদের অর্থানুকূল্যে নির্মিত একটি বৃদ্ধাশ্রমকে রাতারাতি এভাবে বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যে রূপান্তর করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এই বেআইনি রূপান্তরের জেরে গত আড়াই বছর ধরে সরকারি কোষাগারে কোনো রাজস্ব জমা পড়েনি বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।
নেপথ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজস্ব ফাঁকি
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রথমে এই সরকারি জমিতে কয়েকটি ঘর বানিয়ে অসহায় ও দরিদ্র বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে পুরো চত্বরটিকে ‘সঞ্চারী’ নামের একটি বিলাসবহুল রিসর্টে পরিণত করা হয়। জানা গেছে, তৎকালীন জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী ও পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল কেরিম খানের আমলে এই জমি নানুরের বাসাপাড়ার একটি সংস্থাকে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তা বোলপুরের অন্য একটি সংস্থার হাতে হস্তান্তর হয়। বর্তমানে এই রিসর্ট থেকে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করা হলেও তার কোনো অংশই জেলা পরিষদের সরকারি তহবিলে জমা পড়ছে না। এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি ও খাস জমি দখলের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।
দায় এড়ালেন কাজল শেখ
এই নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে বীরভূম জেলা পরিষদের বর্তমান সভাধিপতি তথা হাঁসন বিধানসভার বিধায়ক কাজল শেখ সম্পূর্ণ দায় এড়িয়ে গেছেন। তাঁর দাবি, জেলা পরিষদের টাকায় খাস জমির ওপর একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে এই বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠেছিল, যা পরবর্তীতে রিসর্টে রূপান্তরিত হয়। তিনি সভাধিপতি থাকার গত আড়াই বছরে জেলা পরিষদের তহবিলে কোনো অর্থ জমা পড়েনি। কাজল শেখ এটিকে সম্পূর্ণ ‘বেআইনি নির্মাণ’ বলে আখ্যা দিলেও, কেন তিনি নিজে এতদিন কঠোর ব্যবস্থা নেননি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে তিনি জানান যে খাস জমি জেলা শাসকের তত্ত্বাবধানে থাকায় তিনি এই বিষয়ে তদন্তের জন্য জেলা শাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, রিসর্টের কর্ণধার রবীন্দ্রনাথ রায় সমস্ত দায় প্রশাসনের ওপর চাপিয়ে দাবি করেছেন যে, সরকার তাঁকে যেভাবে দিয়েছে তিনি সেভাবেই নিয়েছেন, বাকিটা জেলা প্রশাসন বলতে পারবে। তদন্তের মাধ্যমেই এখন এই দুর্নীতির প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।