নিরাপত্তার চাদরে ঢাকছে চিকেনস নেক, শিলিগুড়িতে বিএসএফের হেড কোয়ার্টার ও আইটিবিপির বেসক্যাম্প!

রাজ্যে শাসনক্ষমতার পরিবর্তনের পর দেশের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ভৌগোলিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর বড়সড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার সীমান্ত সুরক্ষায় একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই করিডরের নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশকে (আইটিবিপি) বড় অঙ্কের জমি বরাদ্দ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের সবুজ সংকেত দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
করিডর এলাকার সুরক্ষায় ইতিমধ্যেই প্রায় ১২০ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। এছাড়াও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে কাঁটাতারের বেড়া (ফেন্সিং) ও বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) নির্মাণের জন্য বিএসএফ-কে নতুন করে আরও ৮৮ একর জমি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফাঁসিদেওয়াসহ সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার প্রাথমিক কাজও গতি পেয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ
শিলিগুড়িতে ব্যাটালিয়ন হেড কোয়ার্টার স্থাপনের জন্য বিএসএফ রাজ্য সরকারের কাছে ৬ একর জমি চেয়েছে, যা বর্তমানে অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি, চীন সীমান্তের সুরক্ষায় নিয়োজিত ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি) এখানে একটি বড় বেসক্যাম্প তৈরির জন্য ১০০ একর জমি চেয়েছে। এই প্রস্তাবটিও রাজ্য সরকারের বিবেচনাধীন এবং দ্রুত অনুমোদনের পথে বলে জানা গেছে। এই দুই আধাসামরিক বাহিনীর স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি হলে উত্তর-পূর্ব ভারতে নজরদারি ও কৌশলগত শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
দ্রুত সেনা চলাচল ও কৌশলগত প্রভাব
প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো মজবুত করার পাশাপাশি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সামরিক সরঞ্জাম ও দ্রুত সৈন্য চলাচল নিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। সীমান্ত সংলগ্ন পূর্ত দপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন সাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সড়ক জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (এনএইচএআই) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সড়কগুলোর আধুনিকীকরণের ফলে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত সেনা জওয়ানদের যাতায়াত, ভারী সামরিক সরঞ্জাম ও দূরবর্তী সেনাঘাঁটিগুলিতে রসদ সরবরাহ আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও দ্রুত হবে। উন্মুক্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সম্পূর্ণ সিল করার এই প্রক্রিয়া উত্তরবঙ্গে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ‘চিকেনস নেক’ করিডরের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করবে।