তৃণমূলের অদিতির পক্ষে আদালতে লড়ছেন বাম নেতা বিকাশ, ক্ষোভে ফুটছে আলিমুদ্দিন ও নিচুতলা!

তৃণমূলের অদিতির পক্ষে আদালতে লড়ছেন বাম নেতা বিকাশ, ক্ষোভে ফুটছে আলিমুদ্দিন ও নিচুতলা!

কলকাতা হাইকোর্টে দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর পক্ষে আইনি লড়াই লড়ছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। আদালতের এই ঘটনায় আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন ওই দুই তৃণমূল নেতা। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি এবং বেআইনি দুর্নীতির অভিযোগে সিপিএম রাজনৈতিক ময়দানে লাগাতার আন্দোলন করে এসেছে, তাঁদের হয়েই দলের এক শীর্ষ নেতার এই আইনি সওয়াল দলের অন্দরে এক অভূতপূর্ব বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিএমের সদর দফতর আলিমুদ্দিন স্ট্রিট যেমন দ্বিধাবিভক্ত, তেমনই দলের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পেশাগত দায়িত্ব বনাম রাজনৈতিক নৈতিকতার সংঘাত

বিতর্কের মুখে পড়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন সিপিএমের এই তাত্ত্বিক নেতা। বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের সাফ দাবি, তিনি পেশায় একজন আইনজীবী এবং তাঁর কাছে মক্কেলের রাজনৈতিক পরিচয় বড় বিষয় নয়। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে আমেরিকার এক বিখ্যাত আইনজীবীর উদাহরণ টেনে তিনি এই পেশাগত নীতিকে সঠিক বলে সওয়াল করেছেন। তবে এই পেশাদারিত্বের যুক্তি মেনে নিতে পারছেন না দলের সাধারণ কর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে শাসক দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং মাঠ-ঘাটে আক্রান্ত হওয়া নিচুতলার কমরেডরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি এই প্রবীণ নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। দলের একাংশের মতে, যে নেতাদের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হলো, আদালতে তাঁদেরই ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাকে দেখা গেলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাবে।

তদন্তের আবহ ও বাম শিবিরের অস্বস্তি

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিজেপি সরকার গঠনে উন্মুখ এবং দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু হতেই আইনি সুরক্ষাকবচ বা আগাম জামিনের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন দেবরাজ ও অদিতি মুন্সি। ঠিক এই আবহেই বিকাশ ভট্টাচার্যের এই ভূমিকা সিপিএমের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই বিষয়ে দলের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে বিকাশ ভট্টাচার্য অর্জুন সিংয়ের মতো নেতাদের হয়েও মামলা লড়েছেন এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের জেলে পাঠানোর পেছনেও তাঁর আইনি লড়াই ছিল। তবে বর্তমান মামলাটি নিয়ে দলে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা তিনি স্বীকার করেছেন এবং দল প্রয়োজন মনে করলে এ বিষয়ে আলোচনা করবে বলে জানান।

দীর্ঘদিন পর বিধানসভায় শূন্যের গেরো কাটিয়ে যখন সিপিএম নতুন করে সংগঠন গোছানোর কাজে নামছে, ঠিক তখনই এই ঘটনা দলের ভাবমূর্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিল। আলিমুদ্দিনের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে এখনই এই নিয়ে মুখ না খুললেও, ভেতরে ভেতরে চাপা গুঞ্জন ও অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে, তৃণমূল জমানায় আক্রান্ত সাধারণ কর্মীদের মনোবল এই ঘটনার ফলে কতটা ধাক্কা খাবে, তা নিয়ে সিপিএম নেতৃত্বের একাংশ গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *