হারের নেপথ্যে ভেতরের শত্রু? ফেসবুক লাইভে মমতার ‘বেনোজল’ তত্ত্বে তোলপাড় রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের ২০ দিন পর নীরবতা ভেঙে সরাসরি ফেসবুক লাইভে এলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূল ধারার সংবাদমাধ্যমকে একপ্রকার বয়কট করে জনগণের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছাতে সোশ্যাল মিডিয়াকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। এই ভিডিও বার্তায় নির্বাচন কমিশন ও ইভিএম কারচুপির মারাত্মক অভিযোগ তোলার পাশাপাশি, দলের ভরাডুবির পেছনে এক বিস্ফোরক ‘বেনোজল’ তত্ত্ব খাড়া করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
ইভিএম কারচুপি ও সংবাদমাধ্যম বয়কটের ডাক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নজিরবিহীন প্রহসন হয়েছে এবং ইভিএম লুটের মাধ্যমে এই ফলাফল জোর করে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “গত ২০ দিন ধরে আমি সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করেছি, কিন্তু আর নয়।” সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানান, মিডিয়া এখন একতরফাভাবে নতুন শাসকদলের হয়ে কাজ করছে। তাই তিনি আর সরাসরি কোনো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন না; যা বলার নিজের ফেসবুক পেজ থেকেই সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরবেন।
দলের পরাজয়ে ‘বেনোজল’ তত্ত্বের আমদানি
নির্বাচনে দলের এমন আকস্মিক বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও সাংগঠনিক ফাটলের বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, দলের ভেতরে সুযোগসন্ধানী কিছু ‘বেনোজল’ অর্থাৎ বহিরাগত বা অনুপ্রবেশকারী মানুষের আগমন ঘটেছিল। তাদের ভুল কর্মকাণ্ড এবং অন্তর্ঘাতের জন্যই সংগঠনের এই অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এই নেতিবাচক বিষয়টি আগেভাগে আঁচ করতে না পারা এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নিতে পারাটাই দলের হারের অন্যতম প্রধান কারণ।
তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে আশ্বাসের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “লড়াই এখনই শেষ হয়ে যায়নি, বরং এবার নতুন করে, নতুন শক্তিতে শুরু হবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘বেনোজল’ তত্ত্ব আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় শুদ্ধিকরণ, রদবদল এবং নতুন সাংগঠনিক কৌশলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।