রেকর্ড গরমে পুড়ছে তেলেঙ্গানা, হিট স্ট্রোকে প্রাণ হারালেন ১৬ জন

রেকর্ড গরমে পুড়ছে তেলেঙ্গানা, হিট স্ট্রোকে প্রাণ হারালেন ১৬ জন

তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তেলেঙ্গানা। উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকার মতো এই রাজ্যেও সূর্যের পারদ চড়চড় করে বাড়ছে। রাজ্যের একাধিক জায়গায় তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এই চরম আবহাওয়ার জেরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৭টি জেলায় হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তড়িঘড়ি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী পোঙ্গুলেটি শ্রীনিবাস রেড্ডি। চরম সংকটের এই আবহে মৃতদের পরিবার পিছু ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে তেলেঙ্গানা সরকার।

মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী আরও তিন দিন রাজ্যে এই তীব্র তাপপ্রবাহ বজায় থাকবে। ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জয়শঙ্কর ভূপালপল্লীতে ৪ জন, ওয়ারাঙ্গল আরবান, করিমনগর ও নিজামবাদে ৩ জন করে মোট ৯ জন এবং জোগুলাম্বা গাদওয়াল, রাঙ্গারেডি ও সূর্যপেটে ১ জন করে মানুষ হিটস্ট্রোকের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও সতর্কবার্তা

বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যজুড়ে একাধিক জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে রাস্তায় রাস্তায় ঠান্ডা পানীয় জল, ওআরএস প্যাকেট এবং ঘোল বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সরকারি হাসপাতালগুলিকে আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দিতে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে প্রতি ঘণ্টায় সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের।

ঝুঁকি ও সম্ভাব্য প্রভাব

গ্রীষ্মের এই মারাত্মক প্রকোষ্ঠে প্রবীণ নাগরিক, শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষ সুরক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন। তীব্র গরমের কারণে সাধারণ জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গৃহপালিত ও বন্যপ্রাণীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মানবিকতার খাতিরে পাখি ও অন্যান্য অবলা প্রাণীদের জন্য বাড়ির বাইরে জল রাখার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। ওআরএস-এর সঠিক ব্যবহার এবং সচেতনতাই এখন এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *