ঝিনুক কুড়োতে গিয়ে চরম বিপর্যয়, কর্ণাটকে নদীতে তলিয়ে একই পরিবারের ৮ জনের মৃত্যু

কর্ণাটকের উত্তর কন্নড় জেলায় ঝিনুক সংগ্রহ করতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে প্রাণ হারালেন একই পরিবারের আটজন সদস্য। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সাতজনই মহিলা। নিখোঁজ আরও দুইজনের সন্ধানে নদীতে জোর কদম উদ্ধারকার্য চালানো হচ্ছে। রবিবার ভাটকলের শিরালি গ্রামের কাছে তাট্টে হাক্কালু নদীতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
জীবিকার তাগিদে নদীতে নেমে বিপর্যয়
তাট্টে হাক্কালু নদীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বহু মানুষ মিষ্টি জলের ঝিনুক সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রথাগত এই পেশার টানেই রবিবার ওই পরিবারের ১৪ জন সদস্য নদীতে নেমেছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝিনুক সংগ্রহের সময় অসাবধানতাবশত কয়েকজন নদীর গভীর অংশে চলে যান। ঠিক সেই মুহূর্তেই আচমকা নদীর জলস্তর এবং স্রোতের গতিবেগ বৃদ্ধি পায়। তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে একজন ভেসে যেতে থাকলে, তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে বাকিরাও একে একে নদীর গভীরে তলিয়ে যান। এখনও পর্যন্ত নদী থেকে আটটি মৃতদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে নদীর জলস্তর এবং স্রোত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে গিয়েছিল। মৃতদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের সাথে যুক্ত এবং অভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও, প্রকৃতির এই আকস্মিক পরিবর্তন তাঁরা আঁচ করতে পারেননি। এই দুর্ঘটনার ফলে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ঝিনুক সংগ্রহকারী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ঐতিহ্যগত পেশায় নিযুক্ত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।