ফলতায় দ্বিতীয় বামেরা, ‘আর কোনো জাহাঙ্গির তৈরি হতে দেব না’ হুঙ্কার সিপিএম প্রার্থীর

ফলতায় দ্বিতীয় বামেরা, ‘আর কোনো জাহাঙ্গির তৈরি হতে দেব না’ হুঙ্কার সিপিএম প্রার্থীর

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড়সড় বদলের ইঙ্গিত মিলছে। নির্বাচনে জয়লাভ করে আসনটি বিজেপি দখল করলেও, সবাইকে চমকে দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ডোমকলের পর ফলতার এই ফলাফল আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে নতুন অক্সিজেন জোগাচ্ছে। ভোট গণনার শেষে দেখা গিয়েছে, সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি ৪০,৬৪৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান বজায় রেখেছেন। আর এই ফলের পরেই তৃণমূলের দীর্ঘদিনের আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বাম প্রার্থী।

তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস ও বামেদের উত্থান

নির্বাচনের ঠিক আগে ফলতায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভোটবাক্সে। তৃণমূলের এই রাজনৈতিক পিছুটান এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বামেরা নিজেদের হারানো জমি অনেকটাই পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। উল্লেখ্য, এর আগে বিগত লোকসভা নির্বাচনে এই ফলতা বিধানসভা এলাকায় বামেদের ঝুলিতে এসেছিল মাত্র ২ হাজারের কিছু বেশি ভোট। সেখান থেকে একলাফে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোট পাওয়াকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এই ফলাফলের পর আত্মবিশ্বাসী শম্ভুনাথ কুর্মি সাফ জানিয়েছেন, ফলতায় আর কোনো ‘জাহাঙ্গির’ অর্থাৎ দুষ্কৃতীরাজ তৈরি হতে দেওয়া হবে না এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে তাঁরা গণ আন্দোলনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

ভয়মুক্ত নির্বাচন ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

সিপিএম প্রার্থী সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, এতদিন এই এলাকায় পুলিশ ও মস্তান বাহিনীর দাপটে দরিদ্র মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন না। এবার কড়া নিরাপত্তায় নিরপেক্ষ ভোট হওয়ায় মানুষের আসল রায় সামনে এসেছে। বামেদের এই প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, বিজেপি বিরোধিতায় মানুষ যে বামপন্থীদের বিকল্প রাজনীতি ও লাল ঝাণ্ডার ওপর ভরসা রাখছেন, এই ফলাফল তারই প্রমাণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রার্থীর ভোট ময়দান থেকে পলায়ন এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কারণেই তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে এই ধস নেমেছে, যার সুফল ঘরে তুলেছে বাম ও বিজেপি উভয় পক্ষই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *