গ্রীষ্মের দাবদাহে ভুল রঙের পোশাক ডেকে আনছে মারণ রোগ, সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা

গ্রীষ্মের দাবদাহে ভুল রঙের পোশাক ডেকে আনছে মারণ রোগ, সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা

মে-জুনের গনগনে রোদে পুড়ছে দেশ। পারদ ইতিমধ্যেই ৪৫ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পেরিয়ে রেকর্ড ভাঙতে শুরু করেছে। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে একটু স্বস্তি পেতে আমজনতা যখন ডাব, লেবুর জল, লস্যি বা ছাঁচে গলা ভেজাচ্ছেন, ঠিক তখনই সামনে এল বিজ্ঞানীদের এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা। চিকিৎসকরা বলছেন, এই মরশুমে আপনি কী খাচ্ছেন, শুধু তা-ই নয়, আপনি কী রঙের পোশাক পরছেন, তার ওপর নির্ভর করছে আপনার জীবন-মরণ। ভুল রঙের কাপড়ের চয়ন আপনার শরীরকে আস্ত একটা চুল্লিতে পরিণত করতে পারে, যা ডেকে আনতে পারে অবহারিত মৃত্যু।

বিজ্ঞান বলছে, শুধু কাপড়ের উপাদান বা ফ্যাব্রিক নয়, পোশাকের রঙ সরাসরি আমাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ‘সায়েন্স এবিসি’-র একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিশেষ কিছু রঙ সূর্যের মারাত্মক তাপ ও থার্মাল এনার্জি বা তাপীয় শক্তিকে স্পঞ্জের মতো শুষে নেয়, যা শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বিপদসীমার ওপরে তুলে দেয়। এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে কালো রঙ। বিজ্ঞানীদের দাবি, কালো রঙের পোশাক সূর্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ আলো এবং তাপ নিজের মধ্যে টেনে নেয়। পরে সেই আলো শরীরের ভেতরে মারাত্মক তাপে রূপান্তরিত হয়। কালোর পাশাপাশি আরও দুটি রঙকে এই মরশুমের জন্য ‘থার্মাল ম্যাগনেট’ বা তাপের চৌম্বক বলা হয়েছে— নেভি ব্লু এবং ডার্ক রেড বা মেরুন। রোদের মধ্যে এই তিনটি রঙের পোশাক পরলেই শরীর ভেতর থেকে ফুটতে শুরু করে।

গাঢ় রঙের মারণ খেলা ও শারীরিক ক্ষতি

‘মেডিক্যাল নিউজ টুডে’র সতর্কবার্তা অনুযায়ী, গাঢ় রঙের পোশাকের এই মারণ খেলা শুধু অতিরিক্ত ঘাম হওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে না। শরীরের তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে দেহের অভ্যন্তরীণ ‘থার্মোস্ট্যাট’ বা তাপ-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিগড়ে যায়। এর জেরে মাথা ঘোরা, চরম ক্লান্তি, তীব্র জলবিয়োগ বা ডিহাইড্রেশন এবং শেষমেশ ‘হিটস্ট্রোক’ বা মারাত্মক লু লাগার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এখানেই শেষ নয়, ডার্ক রঙের পোশাকের কারণে ঘাম চামড়াতেই আটকে বা লক হয়ে যায়। ফলে সেখানে হু হু করে ব্যাকটিরিয়া বংশবৃদ্ধি করে, যা থেকে তীব্র ঘামাচি, অ্যালার্জি ও নানা ধরনের চর্মরোগ বা স্কিন ইনফেকশন ছড়ায়।

তীব্র দাবদাহে সুস্থ থাকার উপায়

এই নরকগুলজার গরমে বাঁচার উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে গাঢ় রঙকে পুরোপুরি আলমারিতে বন্দি করে হালকা রঙের পোশাকে ভরসা রাখুন, যা শরীরকে কুল ও সেফ রাখবে। সবচেয়ে সেরা হলো সাদা রঙ। সাদা রঙ সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মিকে প্রতিফলিত বা রিফ্লেক্ট করে ফিরিয়ে দেয়, ফলে শরীরে তাপ প্রবেশ করতে পারে না। এছাড়া হলুদ এবং যে কোনও পেস্টেল কালার, যেমন স্কাই ব্লু, হালকা গোলাপি ও মিন্ট গ্রিন রঙের পোশাক শরীরকে অনেকটাই ঠান্ডা রাখে।

পাশাপাশি ১০০ শতাংশ সুতি বা লিনেন ফ্যাব্রিকের ঢিলেঢালা এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরাই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ সুতি ও লিনেন ত্বককে সহজে শ্বাস নিতে সাহায্য করে এবং ঘাম দ্রুত শুষে নেয়। তাই কৃত্রিম বা সিন্থেটিক ও ভারী পোশাক বর্জন করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর তরল পানের পাশাপাশি সঠিক রঙ ও সুতি কাপড়ের সঠিক মেলবন্ধনই আপনাকে এই তীব্র দাবদাহে সুস্থ রাখতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *