সন্তানদের সামনেই স্ত্রীকে জুতোপেটা, মুখে থুতু! গৃহবধূর মৃত্যুর আগের শিউরে ওঠা CCTV ফুটেজ ভাইরাল

ঘরোয়া সহিংসতার চরম নৃশংসতা কেড়ে নিল জয়পুরের গৃহবধূর প্রাণ!
রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ অনু মীনার আত্মহত্যার ঘটনাটি পারিবারিক সহিংসতার এক ভয়াবহ রূপ সামনে এনেছে। মৃতার স্বামীর সরকারি পদমর্যাদা থাকা সত্ত্বেও খোদ নিজের সন্তানদের সামনেই স্ত্রীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসায় এই চরম বর্বরতার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে, যা পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
যৌতুকের দাবি ও লাগাতার নির্যাতন
২০১৫ সালে বেশ ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল অনুর। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার স্বামী গৌতম মীনা এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন অতিরিক্ত অর্থ ও যৌতুকের দাবিতে অনুর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করে। প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় ঘরে ঢুকে অনুকে মারধর করা হতো। ঘটনার গভীরতা ও নৃশংসতা স্পষ্ট হয় অনুর ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া গত ৩ মার্চের একটি সিসিটিভি ফুটেজে, যেখানে দেখা যায় মদ্যপ স্বামী জুতো দিয়ে মারধর করার পাশাপাশি রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারে অনুর মাথা ঠুকে দেয় এবং মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর সন্তানের সামনেই তার মুখে থুতু ফেলে।
সামাজিক প্রভাব ও আইনি পদক্ষেপ
গত ৭ এপ্রিল অনুর মৃত্যুর পর প্রাথমিকভাবে এটিকে সাধারণ পারিবারিক বিবাদ মনে করা হলেও, এই অকাট্য ভিডিও প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর অনুর পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়। ঘটনাটি সমাজে নারীদের নিরাপত্তা এবং উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের মানসিকতার এক অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে। মায়ের ওপর এই চরম অত্যাচার চোখের সামনে ঘটতে দেখে অনুর ১০ ও ৫ বছর বয়সী দুটি সন্তান মারাত্মকভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা তাদের ভবিষ্যতে গভীর ট্রমা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে অনুর ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ স্বামী গৌতম মীনা ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও ঘরোয়া সহিংসতার মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
এক ঝলকে
- রাজস্থানের জয়পুরে যৌতুকের দাবিতে অনু মীনা নামের এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
- অভিযুক্ত স্বামী গৌতম মীনা পেশায় একজন সরকারি এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার।
- আত্মহত্যার এক মাস আগের সিসিটিভি ফুটেজে সন্তানদের সামনে স্ত্রীর ওপর নৃশংস অত্যাচারের দৃশ্য প্রমাণিত হয়েছে।
- নিহতের ভাইয়ের অভিযোগে পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও পারিবারিক নির্যাতনের মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে।