মালদহে ভরদুপুরে বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা, উত্তাল চাঁচল

মালদহের চাঁচলে ভরদুপুরে এক সক্রিয় বিজেপি কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির নাম কিরণ সাহা, যিনি পেশায় চাঁচল মহকুমা আদালতের একজন আইনজীবী এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সঙ্গেও যুক্ত। সোমবার সকালে বাজার থেকে ফেরার পথে তাঁর ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীরা।
হামলার নেপথ্যে নারী নিগ্রহের প্রতিবাদ ও পুরোনো আক্রোশ
আক্রান্ত কিরণ সাহার দাবি, এই হামলার মূলে রয়েছে একটি পুরোনো ঘটনার আক্রোশ। কয়েক মাস আগে এলাকার এক মহিলাকে প্রকাশ্যে উত্যক্ত করার ঘটনা ঘটেছিল, যার তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন কিরণবাবু। পরবর্তীতে তিনি অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। অভিযোগ, সেই প্রতিবাদের জেরেই সোমবার তাঁর ওপর পরিকল্পিতভাবে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। শুধু তাই নয়, আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর বিস্ফোরক অভিযোগ, মূল অভিযুক্তের পেছনে এক প্রভাবশালী পুলিশ আধিকারিকের মদদ রয়েছে, যার কারণে দুষ্কৃতীরা এত বড় অপরাধ করার সাহস পেয়েছে।
এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার পর চাঁচলের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার প্রতিবাদে হিন্দু সংগঠনের কর্মী ও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব আশাপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চাঁচল থানার আইসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ইতিমধ্যে মূল অভিযুক্তকে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন আইনজীবীর ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে ওই এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলার আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।