রাহুলের মন্তব্যে তোলপাড় দেশ, সরকার ফেলার চক্রান্ত দেখছে বিজেপি!

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে অস্থিতিশীল করতে এবং দেশে অরাজকতা তৈরি করতে কংগ্রেস বড়সড় ষড়যন্ত্র করছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল থেকে শুরু করে দলের বর্ষীয়ান নেতাদের দাবি, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে জিততে না পেরে এখন ব্যাকডোর বা বিদেশি শক্তির সাহায্যে দেশে হিংসা ছড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে বিরোধী শিবির।
বিবাদের সূত্রপাত ও সরকারের পতন-বাণী
ঘটনার সূত্রপাত কংগ্রেসের সংখ্যালঘু উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠককে কেন্দ্র করে। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অসন্তোষের জেরে আগামী এক বছরের মধ্যে মোদি সরকার পড়ে যাবে। রাহুল গান্ধীর এই রাজনৈতিক পূর্বাভাসকে কেবল সাধারণ রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবে দেখছে না শাসক দল। বিজেপির মতে, এর পেছনে রয়েছে একটি গভীর ও সুপরিকল্পিত নীল নকশা, যার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা।
টুলকিট গ্যাং ও বিদেশি এজেন্ডার অভিযোগ
রাহুলের এই মন্তব্যের পরই সোশাল মিডিয়ায় সরব হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তাঁর অভিযোগ, রাহুলের এই বক্তব্য কংগ্রেস এবং বিরোধী দলগুলির ‘টুলকিট গ্যাং’-এর বৃহত্তর চক্রান্তের অংশ। গণতান্ত্রিকভাবে নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরানো আসাম্ভব বুঝেই কংগ্রেস এখন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অপমান করছে এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে চাইছে। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র আরও এক কদম এগিয়ে দাবি করেছেন, এই ষড়যন্ত্রের সুতো বাঁধা রয়েছে বিদেশের মাটিতে। জর্জ সোরোসের মতো বিদেশি পুঁজিপতি এবং রাহুলের বিদেশ ভ্রমণের অর্থায়নকারী সংস্থাগুলির নির্দেশেই ভারতে গণতন্ত্রের অবসান ঘটানোর চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাদানুবাদ দেশের সংসদীয় রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে। রাহুলের ‘অর্থনৈতিক অসন্তোষের’ তত্ত্ব সাধারণ মানুষের মনে প্রভাব ফেললে তা সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে, যা বিজেপি শুরুতেই রুখে দিতে চাইছে। পাল্টা হিসেবে বিজেপি যেভাবে ‘বিদেশি চক্রান্ত’ ও ‘হিংসা উস্কে দেওয়ার’ অভিযোগ তুলছে, তাতে আগামী দিনে জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশপ্রেমের আবেগ বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠবে। সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে এই টানাটানির ফলে শেয়ার বাজার এবং বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এক ধরণের সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সরকার পক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জনগণের সমর্থন যতদিন রয়েছে, ততদিন কোনো চক্রান্তই সফল হবে না।