সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এখন থেকেই জমান, রইল সেরা কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের খোঁজ

উচ্চশিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্রমাগত আকাশছোঁয়া খরচের বাজারে প্রতিটি মা-বাবার কাছেই সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এক বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর এই ধরনের খরচ যে হারে বাড়ছে, তাতে সঠিক সময়ে সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা না করলে পরবর্তীতে বড়সড় সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। এই পরিস্থিতি এড়াতে এবং সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বর্তমান সময়ে বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মোটা অঙ্কের তহবিল তৈরি করতে সাহায্য করে।
নিরাপদ ও নিশ্চিত আয়ের সরকারি মাধ্যম
কন্যা সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য কেন্দ্র সরকারের সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা (SSY) অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প। ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ অভিযানের অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই স্কিমে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৮.২ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে। মাত্র ২৫০ টাকা দিয়ে শুরু করা এই প্রকল্পে মূলধনের ওপর আয়কর ছাড়ের সুবিধাও মেলে। ২১ বছরের মেয়াদকাল হলেও কন্যার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে আংশিক টাকা তোলার সুবিধা রয়েছে এই প্রকল্পে।
দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় আরেকটি বিশেষ উদ্যোগ হলো ‘এনপিএস বাৎসল্য যোজনা’। জাতীয় পেনশন সিস্টেমের আওতাধীন এই স্কিমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের নামে অভিভাবকরা সঞ্চয় শুরু করতে পারেন। বছরে সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা বিনিয়োগের এই স্কিমটি সন্তানের বয়স ১৮ বছর হলে সাধারণ এনপিএস অ্যাকাউন্টে রূপান্তরিত হয়। চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা থাকায় এটি সন্তানের ভবিষ্যতের বড় আর্থিক সম্বল হয়ে ওঠে। এছাড়া পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF) আরেকটি চমৎকার বিকল্প। ১৫ বছরের লক-ইন পিরিয়ড ও আকর্ষণীয় চক্রবৃদ্ধি সুদের এই প্রকল্পে করমুক্ত রিটার্ন পাওয়া যায়, যা সন্তানের উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে অত্যন্ত কার্যকর।
ব্যাংকিং ও মিউচুয়াল ফান্ডের আধুনিক সুযোগ
ঝুঁকিহীন এবং নিয়মিত সঞ্চয়ের জন্য শিশুদের বিশেষ রেকারিং ডিপোজিট (RD) এবং ফিক্সড ডিপোজিট (FD) অন্যতম সেরা মাধ্যম। বিভিন্ন ব্যাংক শিশুদের জন্য সাধারণ অ্যাকাউন্টের তুলনায় কিছুটা বেশি সুদের হারে এই স্কিমগুলো পরিচালনা করে, যেখানে এককালীন বা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমিয়ে নিশ্চিত রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, যারা কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বড় তহবিল গঠন করতে চান, তাদের জন্য রয়েছে চিলড্রেনস মিউচুয়াল ফান্ড। এইচডিএফসি, আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল, টাটা বা ইউটিআই-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের চাইল্ড কেয়ার ফান্ডগুলো মূলত শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের ব্যয়ের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে, যা ইক্যুইটি বাজারের বৃদ্ধির সুবিধা দিয়ে বিনিয়োগকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।
মূল কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মুদ্রাস্ফীতি এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণেই মূলত এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। আজ থেকে ছোট ছোট অঙ্কের টাকা জমানোর অভ্যাস ভবিষ্যতে অভিভাবকদের বড় ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি দেবে। সঠিক সময়ে এই আর্থিক সুরক্ষাকবচ তৈরি করার ফলে পরবর্তী প্রজন্মে উচ্চশিক্ষার পথ যেমন সুগম হবে, তেমনই দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।