তৃণমূল কাউন্সিলরদের গণপদত্যাগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই বোর্ড ভাঙার হিড়িক

তৃণমূল কাউন্সিলরদের গণপদত্যাগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই বোর্ড ভাঙার হিড়িক

রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনে এর বড়সড় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক পুরবোর্ড ও কাউন্সিলরদের মধ্যে হঠাৎ করেই পদত্যাগের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ, বিভিন্ন প্রান্তের তৃণমূল কাউন্সিলররা দলবদ্ধভাবে নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। এর ফলে অনেক জায়গাতেই তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডগুলো ভেঙে পড়ছে এবং প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের শূন্যতা ও পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

গণইস্তফার জোয়ার ও বর্তমান চিত্র

রাজনৈতিক এই ওলটপালটের সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা গিয়েছে উত্তর ব্যারাকপুর ও কাঁথি পৌরসভায়। উত্তর ব্যারাকপুর পৌরসভার প্রধান সহ মোট ১৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলর একসঙ্গে নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। অন্যদিকে, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত কাঁথি পৌরসভাতেও ঘটেছে বড়সড় পতন। সোমবার সেখানে তৃণমূলের ১২ জন কাউন্সিলর মহকুমা শাসকের (এসডিও) কাছে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছেন। একযোগে এতজন কাউন্সিলরের ইস্তফার জেরে কাঁথি পৌরসভার তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম ও নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতে আপাতত সমস্ত দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন পুরপ্রশাসক।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে শাসনক্ষমতার পরিবর্তনের কারণেই মূলত এই ধরনের গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটছে। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলে যাওয়ায় কাউন্সিলরদের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে তাঁরা পদ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে আগামী দিনে এই পুরবোর্ডগুলোর নিয়ন্ত্রণ বিরোধীদের হাতে চলে যেতে পারে অথবা নতুন করে নির্বাচন বা বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে আকস্মিক এই বোর্ড ভাঙার খেলায় সাধারণ নাগরিক পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেটাই এখন জেলা প্রশাসনগুলোর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *