ফ্ল্যাটের দাবিতে গভীর রাতে তৃণমূল কার্যালয় ঘেরাও, নেপথ্যে বিজেপির চক্রান্ত দেখছেন কুণাল ঘোষ

কলকাতার বেলেঘাটার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে রবিবার গভীর রাতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) কার্যালয়ের সামনে আচমকা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন স্থানীয় বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তী। তাঁদের বিরুদ্ধে দফায় দফায় স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।
বিক্ষোভের মূল কারণ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসন প্রকল্পের আওতায় তাঁদের স্থায়ী ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও এখনও বহু পরিবার নতুন মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়নি। গৃহহীন পরিবারগুলোর দাবি, বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে রবিবার রাতের আকস্মিক বিক্ষোভে, যা সরাসরি শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলেছে।
পাল্টা রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ
ঘটনার পরেই পরিস্থিতি সামাল দিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন কুণাল ঘোষ। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের এই ক্ষোভের পেছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে বলে দাবি করেছেন। কুণালের অভিযোগ, এই ঝামেলার পেছনে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA) এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) উসকানি রয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে জটিল করে তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিরোধী শিবির।
সম্ভাব্য প্রভাব
পৌরসভা নির্বাচনের আগে কলকাতার বুকে এই ধরণের বিক্ষোভ শাসকদলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আবাসন সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে জনমানসে অসন্তোষ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে KMDA এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।