আসানসোলে ফের বুলডোজার অ্যাকশন! সেলের জমিতে থাকা তৃণমূল পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিল কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর বেআইনি নির্মাণ ও দখলদারির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতার যে ধারা শুরু হয়েছে, তার কোপ এবার পড়ল খোদ আসানসোলে। আসানসোলের নিউটাউন এলাকার ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় বা পার্টি অফিস সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘সেল’ (SAIL) কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে ভারী যন্ত্র ও বুলডোজার নিয়ে সেল আধিকারিকদের এই আকস্মিক অভিযানে শিল্পাঞ্চল জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

সেলের জমিতে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ

সেল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিউটাউন এলাকার ওই নির্দিষ্ট জমিটি সম্পূর্ণভাবে তাদের মালিকানাধীন। কিন্তু নিয়ম-বহির্ভূতভাবে এবং কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই সেই সরকারি জমির ওপর অবৈধভাবে তৃণমূলের এই পার্টি অফিসটি গড়ে তোলা হয়েছিল। এলাকার সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবেই সোমবার সকালে নিরাপত্তা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে নামে সেল কর্তৃপক্ষ। মুহূর্তের মধ্যে বুলডোজার চালিয়ে পুরো দলীয় কার্যালয়টি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এই দৃশ্য দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশাল ভিড় জমে যায় এলাকায়।

সময় মেলেনি জিনিস সরানোর, দাবি কাউন্সিলরের

উচ্ছেদ হওয়া ওই পার্টি অফিসটি তৈরি করেছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর কাঞ্চন মুখার্জী। আকস্মিক এই ভাঙচুর প্রসঙ্গে তিনি জানান, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং তাঁদের কাজ করার উদ্দেশ্যেই তিনি ওই অফিসটি বানিয়েছিলেন। কাঞ্চনবাবুর দাবি, “রবিবার সন্ধ্যায় সেলের আধিকারিকরা এসে অফিসটি সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। আমি তাঁদের কাছে মাত্র কয়েক দিনের সময় চেয়েছিলাম, যাতে অফিসের ভেতরে থাকা নথিপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু কোনো সময় না দিয়েই সোমবার সকালে আচমকা বুলডোজার চালিয়ে অফিসটি ভেঙে দেওয়া হলো।”

সংঘাতে নারাজ তৃণমূল, সুর নরম কাঞ্চনের

দলীয় কার্যালয় ভাঙা নিয়ে সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হলেও, এবার আসানসোলের এই কাউন্সিলরের গলায় শোনা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। এই ঘটনা নিয়ে তিনি কোনো রকম রাজনৈতিক সংঘাতে জড়াতে চান না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। কাঞ্চন মুখার্জীর বক্তব্য, রাজ্য সরকার বা প্রশাসন যদি সার্বিক উন্নয়ন ও নিয়মের স্বার্থে কোনো পদক্ষেপ করে, তবে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সেই সিদ্ধান্তের পাশেই আছেন। এই উচ্ছেদ নিয়ে সেল কর্তৃপক্ষ বা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই বলেও জানান তিনি। তবে ক্ষমতা বদলের আবহে একের পর এক তৃণমূল কার্যালয় ও প্রভাবশালীদের ডেরায় বুলডোজারের এই গর্জন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *